১৮ আগস্ট ২০২৩
আজকের সিলেট ডেস্ক : দেড় বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থেকে গত ১২ জুলাই সরকার পতনের একদফা ঘোষণা করে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। এ দাবিতে পালিত হয় গণমিছিল ও মহাসমাবেশের মতো বড় কর্মসূচি। কিন্তু ২৮ জুলাইয়ের মহাসমাবেশের পরের দিন ২৯ জুলাই রাজধানীর প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচিতে আশানুরূপ সাফল্য আসেনি বলে আলোচনা চলছে দলের মধ্যে। এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সূত্র বলছে, অবস্থান কর্মসূচির পর একদফা আন্দোলনে বিএনপি কিছুটা বিরতি টানলেও ফের পূর্ণ শক্তি নিয়ে রাজপথ দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি। সরকার পতনের কঠোর কর্মসূচির পথেই হাঁটার আপাতত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকদের। আর এর জন্য সেপ্টেম্বর মাসকেই বেছে নেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।
যদিও সেপ্টেম্বরে সরকার পতনের একদফা দাবিতে কী ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে সে বিষয়ে শীর্ষনেতারা খোলাসা করে কিছু বলছেন না। তবে দলটির একটি সূত্র জানায়, আগস্ট মাসে সমাবেশ, বিক্ষোভ ও পদযাত্রার মতো কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই ফের রাজধানীর প্রবেশমুখে অবস্থান, ঢাকা ঘেরাও, সচিবালয় ঘেরাও এবং লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি।
তবে, এসব কর্মসূচিতে অতীতের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকার সমর্থকদের বাধার সম্মুখীন হলেও রাজপথে মোকাবিলা করার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন চলমান। এ আন্দোলন আজ শুধু বিএনপি নয়, সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও জনগণের। অভিষ্ঠ লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।’
এদিকে অবস্থান কর্মসূচির মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে আসে কর্মসূচিতে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ার পেছনের ঘাটতিগুলো। আর কোনো গাফিলতি যাতে না ঘটে সে বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয় দায়িত্বশীল নেতাদের। তবে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেপ্টেম্বরকে টার্গেট করে চূড়ান্ত আন্দোলনের ছক তৈরি করেছে বিএনপি।
বিএনপি সূত্র জানায়, এবারের আন্দোলন কর্মসূচিতে যদি কেউ গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা করে, তাহলে আর ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে দলটির অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে কঠোরতার এই বার্তা স্পষ্ট করেছে হাইকমান্ড।
এছাড়া ২৯ জুলাই অবস্থান কর্মসূচিতে আরও যারা গাফিলতি করেছেন, তারা দোষ স্বীকার করে আগামীতে আর কর্তব্যে অবহেলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবারের মতো ক্ষমা পান।
বিএনপির একজন যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এ অ্যাকশন প্রয়োজন ছিল। বিএনপির হাইকমান্ডের কঠোর অবস্থানে সতর্ক হবে নেতারা। ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল পদে থেকে আর কেউ গাফিলতি যেন না করে, সেই সতর্ক বার্তাও এটি।’
ছাত্রদলের সাবেক একজন সভাপতি বলেন, ‘একদফার আন্দোলনে ঢাকাকেন্দ্রিক নেতাকর্মীদের বাইরে সম্পৃক্ত হবেন রাজধানীর আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা।’
কর্মসূচির ধরন বুঝে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী আনার পরিকল্পনাও বিএনপির রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলন চলছে। গতকালও (বুধবার) কর্মসূচি ছিল, আজও (গতকাল বৃহস্পতিবার) আছে এবং শুক্রবার সরকার পতনের একদফা দাবিতে আমাদের গণমিছিল আছে।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার জনগণের দুশমন। এরা জাতিকে অনেক পিছিয়ে ফেলেছে। এদের পতন না হওয়া পর্যন্ত জনগণের মুক্তি ঘটবে না। জনগণের মুক্তি আন্দোলন চলবেই, যতদিন না এই জালিম শাহী সরকারের পতন না ঘটে।’
বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, পরবর্তী কর্মসূচিগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করলে তা বিএনপি ফেসবুক লাইভ করে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তিনদিনের কর্মসূচি দিয়েছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। সরকার যদি এটি না করে আন্দোলনের কঠোরতা বাড়তে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকারের অধীনে বিরোধীজোট নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারপরও যদি প্রহসনের নির্বাচনের ব্যবস্থা করে সেক্ষেত্রে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।’
সারাদেশের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিকভাবে সজাগ আছে জানিয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত। সরকার যত অত্যাচারই করুক সফল হবই। আমরা আমাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাব ইনশাআল্লাহ।’