২১ মার্চ ২০২৪


সরকার পতনের পরও খাদিমপাড়ায় ক্ষমতাসীনদের দোর্দন্ড প্রভাব : বিএনপি দুভাগে বিভক্ত, স্থানীয় বিএনপি নেতা নিখোঁজ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিগত ৫ই আগস্ট ২০২৪ ইংরেজী সালে অবিশ্বাস্য ভাবে পতন হয় আওয়ামীলীগের সরকারের। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করে আশ্রয় নেন ভারতে। এত কিছুর পরও কমেনি আওয়ামীলীগ, যুবলীগ আর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের প্রভাব প্রতিপত্ত্বি। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ কোরঠাসা অবস্থায় থাকলেও সিলেট জেলার খাদিমপাড়া ও আশপাশে বিন্দুমাত্র কমেনি আওয়ামী দোসরদের প্রভাব। খাদিম পাড়ায় এখনও বিভিন্ন অপরাধের মূলহোতা তারাই মুলত: অন্তর্বর্তী সরকারের উদারতার কারণে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পূর্বের সরকারের লোকজন বহাল থাকায় খাদিমপাড়ার অধিকাংশ এলাকা এখনও আওয়ামীলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের প্রভাবে পরিচালিত অপকর্মের অভয়ারন্য। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল ও লোকমান আগের মতই নিয়ন্ত্রণ করছে বাধা বিপত্তিহীন ভাবে। তাদের মদদপুষ্ঠ কতিপয় প্রশাসনের কর্তাদের ছত্র ছায়ায় তারা এখনও সক্রিয়। ক্ষমতা হারানোর প্রথম কিছুদিন নিশ্চুপ থাকার পর বর্তমানে তাদের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। খাদিমপাড়ায় সরকার পতনের পূর্বেও বিএনপি ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সম্প্রতি পদ প্রাপ্তি সহ আরও কিছু কারণে বিএনপিতে অন্তকলহ শুরু হয়। দুর্বল বিএনপি খাদিমপাড়ায় আরও দুর্বল হতে শুরু করে। এখন খাদিমপাড়ার নেতাকর্মীরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত। একটি জুয়েল গ্রুপ এবং অন্যটি বদরুল ইসলাম আজাদ গ্রুপ। এই দুই ভাগে বিভক্ত বিএনপি-আরও দূর্বল হয়ে পড়ে।

গত ৫ই আগস্ট/২৪ইং সালে আওয়ামী সরকারের পতনের পর বদরুল ইসলাম আজাদ গ্রুপের সদস্য আব্দুল হান্নান নামে একজন বিএনপিকর্মী এলাকায় আসেন। জনৈক মামুন নামের একজন ব্যক্তির হত্যার জন্য তিনি মামুন হত্যাকাণ্ড মামলার অন্যতম আসামী থাকলেও নিজেকে নিরাপদ ভেবে এলাকায় আমার কিছুদিন পর আকস্মিক ওম গন। এরই মধ্য দুই গ্রুপের দ্বন্দে বিরোধ চরমে উঠে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ধরে রাখে আগের অবস্থান এবং আরও শক্তিশালী হয় তারা। আব্দুল হান্নান কে গুমের বিষয় দ্বিধা দ্বন্দে আছে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসন। আব্দুল হান্নানকে গুম করেছে কাইয়ুম গ্রুপ নাকি পূর্বে শত্রু আওয়ামীলীগ। এলাকার অধিকাংশ ব্যক্তির ধারণা আওয়ামীলীগই গুম করেছে হান্নানকে। অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির ধারণা আব্দুল হান্নান আন্ত কলহের কারণে গুম হয়েছেন।
সিলেট শাহ পরান (রঃ) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাতে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তের পর বলা যাবে। তদন্তের পূর্বে কোন মন্তব্য করতে রাজী হন নাই তিনি। কেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছে না এমন প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র আওয়ামীলীগ করলেও গ্রেফতার করার কোন নির্দেশনা নেই। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে এমন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দোষী বলে আমরা মনে করি। এখানে দলীয় পরিচয় দেখা হয় না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, কিছুদিন পূর্বে খাদিমপাড়ার বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা কর্মী কেও সুনির্দিষ্টি অভিযোগের কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন ক্ষমতায় নিরপেক্ষ সরকার তাই দলীয় পরিচয় আমাদের নিকট মুখ্য নয়। এলাকাবাসী জানান, আওয়ামীলীগ আগেও খাদিমপাড়ায় খুবই প্রভাবশালী ছিল এখনও একই অবস্থা বিদ্যমান।

শেয়ার করুন