১৯ জুলাই ২০২৩
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার নয়াগ্রাম শিমুলতলা দাখিল মাদ্রাসার আয়া তকমিনা বেগম। বেতন ভাতা ফিরে পাওয়ার দাবীতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্বামী সন্তান নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই ) সকালে এ অবস্থান কর্মসূচিতে তকমিনা বেগম তার প্রতিবন্ধী স্বামী মহীউদ্দীন, দুই শিশু সন্তান রাবেয়া আক্তার (৮) ও জুনায়েদ আহমদ (৫) নিয়ে অবস্থান করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আয়া তকমিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার কিছু জমি নিয়ে স্থানীয় একজনের সাথে মাদ্রাসার সুপার জিয়াউল হক ও সভাপতি মনিরুল ইসলামের দ্বন্দ চলছিল। দ্বন্দের এক পর্যায়ে সুপার ও সভাপতি তাকে বেতন সংক্রান্তের কাজ আছে বলে মৌলভীবাজার আদালতে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকটি কাগজে তকলিমার স্বাক্ষর নেন। স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে একই গ্রামের মঈনুল ইসলাম মনু মাষ্টারের ছেলে জুমন মিয়ার নামে নারী নির্যাতন মামলা করানো হয়।’ পরবর্তীতে সুপার ও সভাপতির সাথে মামলার বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করায় ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করে দেয় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।’
তকমিনা আরও বলেন বেগম বলেন, বেতন ভাতা ফিরে পেতে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদনের সংবাদ সম্মেলনসহ জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। এতকিছুর পরও বেতন ভাতা ফিরে না পেয়ে আমি আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবস্থান করছি। বেতন ভাতা বন্ধ হওয়ায় গত পবিত্র ঈদুল ফিতর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী ও ছেলেমেয়েদেরকে নিয়ে মানবেতার জীবন যাপনসহ অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে তার। তিনি বেতন ভাতা ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।’
স্বামী মহিউদ্দিন জানান, ‘আমি প্রতিবন্ধী মানুষ। কোন আয় রোজগার করতে পারিনা। স্ত্রীর বেতন ভাতা বন্ধ হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতার জীবনযাপন করছি আমরা।
এবিষয়ে নয়াগ্রাম শিমুলতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার জিয়াউল হক বলেন, মামলা করানোর বিষয়ে আমি জড়িত নই।
আদালতে মামলা করানোর বিষয়টি অস্বীকার করে মাদ্রাসার সভাপতি মনিরুল ইসলাম জানান, আয়া কর্তৃক আদালতে নারী নির্যাতন মামলা করা এবং পরে এ মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে মাদ্রাসার মান সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ায় সাময়িকভাবে আয়ার বেতন ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, আয়ার বেতন ভাতা বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।