৬ মে ২০২২
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে উন্নয়ন কমিটি চাঁদা আদায়ের ঘটনা নিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটকরা। এতোদিন ঘটনাটি আড়ালে থাকলেও বৃহস্পতিবার চাঁদা আদায়ের ঘটনা নিয়ে পর্যটকদের লাঠিপেটা করেন পর্যটন উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা। এ ঘটনার পর উঠে এসেছে নেপথ্যে উন্নয়ন কমিটির নামে ‘চাঁদাবাজি’। স্থানীয় কতিপয় নেতাকর্মী তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা স্বেচ্ছাসেবক চক্র। চক্রের সদস্যরা লাখ লাখ পর্যটকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। এর নেপথ্যে আছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী, যারা জাফলং শাসন করেন।
এজন্য উপজেলা প্রশাসন ও পর্যটন উন্নয়ন কমিটিকে দায়ী করছেন বিভিন্ন মহল। পরিচ্ছন্নতার নামে ১০ টাকা চাঁদা আদায়ের ঘটনা জানে না জেলা পুলিশও।
যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান বলেন, চাঁদা আদায়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, এটা চাঁদা নয়, প্রবেশ ফি হিসেবে আদায় করা হচ্ছে, যে টাকা উন্নয়ন খাতে ব্যবহার হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকায় প্রবেশ ফি বা চাঁদা আদায়ের যৌক্তিকতার প্রশ্নে তিনি বলেন, জেলা উন্নয়ন কমিটি নির্ধারণ করে দিয়েছে, উপজেলা প্রশাসন কেবল বাস্তবায়ন করেছে।
পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন বলেন, উপজেলা প্রশাসন এই ফি কিভাবে নির্ধারণ করেছে? এটা কিসের টাকা? কি হিসেবে তোলা হচ্ছে? এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও কোনো সমন্বয় করা হয়নি। এটা উপজেলা প্রশাসনই বলতে পারবে। তবে পর্যটক হযরানির ঘটনা এখন থেকে তদারকিতে নেওয়া হচ্ছে। আজ যা ঘটেছে, এটা কেটল জাফলংয়ের জন্য নয়, পুরো একটি অঞ্চলের জন্য বদনামের।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সনাক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাফলং পর্যটন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছে বহিরাগত ও স্থানীয় কতিপয় দুর্বৃত্তরা। সেই সঙ্গে আমলারাও দায়ী। নয়তো, প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ ফি কেমনে নির্ধারণ করা হয়, প্রশ্ন রাখেন তিনি। তারা সিলেটের পর্যটনকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। তাদের কাছে জাফংয়ের বদনাম হলেও কিছু যায় আসে না।
পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ট্যুর সিলেটের স্বত্বাধিকারী সাংবাদিক, প্রভাষক সালমান ফরিদ বলেন, একটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের লাঞ্ছিত করা মানে ওইস্থানে আর না যেতে নিরুৎসাহিত করা। পর্যটকরা এই স্থানকে অনিরাপদ মনে করবেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রশাসন দায় এড়াতে পারেন না। আর হামলাকারী এরা কারা, তাদের কে বা কারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, কার স্বার্থে দিয়েছেন, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সদস্য স্থানীয় পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান লেবু পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক মন্তব্য করে বলেন, ঈদের আগে বৈঠকে কমিটি ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে। যদিও প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকায় এই ফি নির্ধারণ ঠিক হয়নি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান আরো বলেন, ১০ টাকা আদায়, এটাকে চাঁদা বলা যাবে না, এটা উন্নয়ন ফি। জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি নির্ধারণ করে দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন কেবল বাস্তবায়ন করেছে। তবে ১০ টাকা চাঁদার বিনিময়ে পর্যটকদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য ‘চেঞ্জিং সুবিধা কক্ষ ও ওয়াইফাই’সহ অনেক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে।
পর্যটন উন্নয়ন করপোরেশনতো বরাদ্দ দিয়ে থাকে তাহলে উপজেলা প্রশাসন কেনো প্রবেশ ফির নামে চাঁদা নিচ্ছে এবং কার স্বার্থে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নের কাজে আমরা এই টাকা ব্যয় করে থাকি। তবে এ নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি জাফংলয়ে ২৭ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছিল। পর্যটন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য ১০ টাকা মূল্যের টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পর্যটন এলাকায় টিকিট কাউন্টারে তর্কাতর্কির জেরে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, বর্বরোচিত। এটার রেশ পড়বে পুরো জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের ওপর। হামলাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছি।
উল্লখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জাফলংয়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের লাঠিপেটা ও নারী পর্যটকদের শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।