৬ আগস্ট ২০২২
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সুনামগঞ্জেও বেড়েছে বাস ও মোটরসাইকেলের ভাড়া। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। হঠাৎ বাসভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং অধিকাংশ মালিক বাস বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
শনিবার শহরের নতুন বাস টার্মিনাল ও আব্দুস জহুর সেতু এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটের বাসভাড়া ছিল ১২০ টাকা। কিন্তু তেলের দাম বাড়ায় সকাল থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে চলাচল করা বিরতিহীন বাসভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, এসি বাসে (নিলাদ্রী) ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১৯০ টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী বাসগুলো আগের চেয়ে জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা আদায় করছে।
তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জ আসা যাত্রী আহমেদ সাফাহাত বলেন, হিসাব করে টাকা নিয়ে বেরিয়েছি। পথে বিপদে পড়েছি। ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আগে ঘোষণা থাকলে ভালো হতো।
তবে বাসচালকরা বলেছেন, তেলের দাম বাড়ায় ভাড়ায় পোষাচ্ছে না। এজন্য বাস ছাড়ছেন না তারা।
অন্যদিকে, হাওর বাঁওড়ের জেলা সুনামগঞ্জে বড় যান চলাচলের জন্য এখনো তেমন সড়ক গড়ে ওঠেনি। সে কারণে জেলার ১২ উপজেলার ছয় উপজেলার প্রধান বাহন মোটরসাইকেলেও ভাড়া বেড়েছে। তবে ভাড়া বাড়িয়ে বেকায়দায় পড়েছেন সুনামগঞ্জ আব্দুস জহুর সেতুতে থাকা শতশত মোটরসাইকেলচালক।
সেতুতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে সারি সারি মোটরসাইকেল সেতুর একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকে যাত্রীদের ডাকছেন। কিন্তু ভাড়া বেশি চাওয়ায় চালকদের সঙ্গে তর্ক করে অটোরিকশা দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা।
মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, হটাৎ করে তেলের দাম বাড়ানোয় তারাও ভাড়া বাড়িয়েছেন। তবে সকাল থেকে যাত্রী পাচ্ছেন না।
চালকরা জানান, আব্দুস জহুর সেতু থেকে আগে তাহিরপুর উপজেলা সদরে একজনের ভাড়া ছিল ১২০ টাকা এখন তা ১৫০ টাকা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ছিল ১০০ টাকা এখন তা ১৫০ টাকা, তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েগড় গ্রামে ছিল ২০০ টাকা এখন ২৫০ টাকা, বড়ছড়া ছিল ১৫০ টাকা এখন ২০০ টাকা, সাচনা বাজার ১০০ টাকা ছিল এখন ১২০ টাকা করা হয়েছে।
মোটরসাইকেলচালক তানভীর মিয়া বলেন, যে হারে তেলের দাম বেড়েছে সেভাবে আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতে পারছি না। ভাড়া বেশি চাইলে যাত্রীরা আমাদের গালিগালাজ করে, বড় অসহায় হয়ে পড়েছি।
চালক আনু মিয়া বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করি। কিন্তু সকাল থেকে ভাড়া বাড়ানোয় এখন পর্যন্ত একটা যাত্রীও পাইনি। সবাই সিএনজি দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে। দ্রুত তেলের দাম কমাতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।