৩ জুন ২০২২
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর উপজেলায় বছরজুড়ে নতুন সড়ক নির্মাণ ও পুরনো সড়ক সংস্কার কাজ চললেও উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু মাদ্রাসা সড়কটি ১০ বছরে একবারও সংস্কার করা হয়নি। উপজেলার ৫ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এই সড়কটি। এই চার গ্রামের বেশির ভাগ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি কাজ। খেটে খাওয়া মানুষদের চলাচলের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা যেন দেখার কেউ নেই। তাই ভাঙা সড়ক দ্রুত মেরামতের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
চারটি গ্রামের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা হেমু মাঝাপাড়া থেকে তামাবিল মহাসড়কের করিচর ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ার ফলে সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ভাঙা সড়কে ১০ বছর চলাচল করলেও এবছর বন্যায় (তলিয়ে যাওয়ায়) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভাঙা অংশ নিয়ে যাতায়াত অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখন এক পশলা বৃষ্টিতেই কাদা জলে মাখামাখি সড়কে ভোগান্তিতে পড়েন গাড়িচালক ও এই সড়কে চলাচল করা পথচারীরা। তবুও মেরামত করা হয়নি উপজেলার এই সড়কটি। ফলে এ সড়কে ১০ বছর ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।
জানা যায়, গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ নিজেরা চাঁদা তুলে বড় বড় গর্তে খ- ইট ব্যবহার করে এখন কোনো রকমে চলাচল করেছেন। ওই সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চলে ঠেলাঠেলি। যেন তাদের কোন দায় নেই। দেড় কিলোমিটারের এই সড়কে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। সড়কে গর্ত হওয়ায় কেউ অসুস্থ হলে অনেক কষ্ট করে তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে হয়। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে হেমু ভাটপাড়া, মাঝপাড়া, দত্তপাড়া, মাঝরটুল, নমশুদ্র পাড়া।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন বলেন, সড়কটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু আমরা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। নিয়মিত জনপ্রতিনিধিদের বলেছি। আমাদের এই সড়কটি কেন যে হচ্ছে না, তা জানা নেই। চার গ্রামের মানুষের বের হয়ে যাওয়ার এটিই একমাত্র সড়ক। এ গ্রামে রয়েছে ১টি দাওরায়ে হাদিস মাদ্রাসা, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এসব ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের জন্য হলেও সড়কটি সংস্কার খুব জরুরী।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক আহমদ দ্রুত সড়কটি স্ংস্কার হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই সড়ক পাকা করা এখন সময়ের ব্যাপার। আমি চেষ্টা করছি, দেখি কি করা যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী একেএম রিয়াজ মাহমুদ বলেন, আমি নতুন এসেছি, এই সড়ক পাকা করণের জন্য আগে টেন্ডার হয়েছে- সেটি আমার জানা নেই। উপজেলায় এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকায় এই সড়কের নাম আছে। আশা করি এটি দ্রুত ব্যবস্থা করা হবে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেন, আমি নিজে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। ১০ বছর থেকে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় খুব ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি এবার এ সড়কটি সংস্কার হবে।
জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়ক পাকা করণের জন্য ২/৩ বার টেন্ডার হয়েছে।এবারও আড়াই কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু এর পর কি হলো জানি না।