২৫ ডিসেম্বর ২০১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক : মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বিএনপির নের্তৃত্বাধিন নির্বাচনী জোটের শরিক দলখেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ন-মহাসচিব। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসন থেকে দেয়াল ঘড়ি নিয়ে প্রার্থী হতে চান। কিন্তু এই আসনটি বিএনপির কাছে অত্যন্ত মর্যাদার। কারন এ আসন থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নিখোঁজ বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি এম. ইলিয়াস আলী।
জাতীয় নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলে বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয় সিলেট-২ আসনকে। এখানে ইলিয়াস আলীর রয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। নিখোঁজের এতোদিন পরও সাধারন মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে তার স্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা আগামী নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী এটি প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
তবে জোটের শরীক খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হতে চান দলটির যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী। খেলাফত মজলিস দাবি করছে এই আসনে জোটের একক প্রার্থী যদি দেয়া সম্ভব না হয় তবে যাতে আসনটি ওপেন রাখা হয়। প্রত্যেকে যাতে এখানে আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারেন। তবে বিএনপির শীর্ষ মহল এই আসনে ছাড় দেবার ব্যাপারে অনড়।
বিএনপি নেতাকর্মিরা মনে করেন এই আসনে ইলিয়াস আলীর প্রতি মানুষের আবেগ ভালোবাসা অনেক সুদৃঢ়। তার উন্নয়ন কর্মকান্ড লোকের মুখে মুখে, চোখে চোখে লেগে আছে। কাজেই এখানে ইলিয়াস আলীর বিকল্প অন্য কাউকে চিন্তা করা যায়না। সেই লক্ষে তিনি নিখোঁজ হবার পর থেকেই তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা নেতাকর্মী ও দলের হাইকমান্ডের অনুরোধে মাঠে কাজ করছেন। তার নের্তৃত্ব এই আসনের নেতাকর্মী ও সমমনা সাধারণ ভোটার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। ইলিয়াস পত্নী হিসেবে তার প্রতি এখানকার মানুষের আলাদা এক আবেগ-অনুভূতি রয়েছে। আর তাই আগামী নির্বাচনে জোটের অধীনে এই আসন রাখতে হলে লুনার বিকল্প নেই।
সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর বিশ্বনাথ উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে খেলাফত মজলিসের দলীয় কর্মসূচীতে মুনতাসির আলী বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে সিলেট-২ আসনে যোগ্যতার ভিত্তিতে জোটের প্রার্থী হতে চাই। অন্যথায় আমার দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন অবশ্যই করবো। এব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।
আর তার এমন বক্তব্য নিয়ে বিএনপি এবং জোটের অন্যান্য দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন এম. ইলিয়াস আলীর অবর্তমানে এই আসনটি পুনরুদ্ধার করতে হলে ইলিয়াস পরিবারের বিকল্প নেই। সেখানে অন্যকেউ প্রার্থী হলে মূলত জোটের বিরোধীতা ও ইলিয়াস আলীর এই আসন হাতছাড়া করা ছাড়া আর কোন লাভ হবেনা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আব্দুল কাদের আজকের সিলেট ডটকমকে বলেন, আমরা এই আসনটি বিএনপির কাছে চাইব। ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনিকে তো সংরক্ষিত কৌটায়ও সংসদে নেয়া যাবে। এজন্য আমরা দাবীটি করব।
আসনটি না পেলে কি খেলাফত মজলিস জোটে থাকবেনা?এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা জোটে আছি এবং থাকব। একটি আসনের জন্য তো আর জোট ত্যাগ করা যাবেনা।
(আজকের সিলেট/২৫ ডিসেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)