১ জুন ২০২২


এক সিঁড়ি নিয়ে ‘দুর্ভোগে’ ৯ ইউনিয়নবাসী

শেয়ার করুন

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : উন্নয়নবঞ্চিত অবহেলিত এক উপজেলার নাম সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার । অথচ এই উপজেলায় বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও সমালোচকও জন্মগ্রহন করেছেন। দোয়ারাবাজারে জন্মগ্রহণ করেছেন এক সময়কার বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ আজরফ। তিনি একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

কাকন বিবি নামে এক মুক্তিযুদ্ধা, ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক বীরযোদ্দা, বীরাঙ্গনা ও গুপ্তচর ছিলেন। এই উপজেলায় আরো দুই জন বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের প্রাণের জনপদ দোয়ারাবাজার রাজনীতির যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হয়ে আসছে। যার ফলে দেশের সর্বস্ব উন্নয়ন হলে ও স্বাধীনতার ৫২ বছরে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এ উপজেলায়।

দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের চলাচলের সবকয়টি নদীতে আছে একটি করে খেয়াঘাট। উপজেলার চেলানদীর পূর্বচাইরগাঁও ও কুনিমুড়া খেয়াঘাট। বাংলাবাজার ইউপির বাঘমারা, দোয়ারাবাজার সদর ইউপির আজমপুর ঘাট,দোহালিয়ার জঙ্গলশ্রী থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলা খেয়াঘাট ও আমবাড়ি বাজার থেকে আদারবাজার খেয়াঘাট। এই সবকয়টি খেয়াঘাট দিয়ে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মানুষকে প্রতিনিয়ত লেখাপড়া, অফিস, আদালত, চিকিৎসা সেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে নদী পার হয়ে উপজেলা সদর ও জেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে হয়।

চেলানদীর খেয়াঘাট দিয়ে জেলার পশ্চিমাঅঞ্চল বিশম্ভপুর, তাহিরপুর, নেত্রকোনা এলাকার মানুষ পাথরের রাজধানী খ্যাত সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তলনের কাজে আসা যাওয়া করে। এসব খেয়াঘাটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীছাউনি ও সিঁড়ি না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। খেয়াঘাটগুলোতে ভোগান্তি চরমে থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটেছে দুর্ঘটনা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের এ দূর্ভোগ দেখার যেনো কেউ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ খেয়াঘাটে নেই উঠা নামার সিঁড়ি এবং অনেকটাতে যাত্রী ছাউনির সিঁড়ি ভেঙে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। মেরামত না থাকায় নদীর পাড়ের উচুঁ ঢালু পথ বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছেন লোকজন। খেয়া নৌকায় মালামাল ও মোটরবাইক ওঠানামা করতে চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন যাত্রীরা। গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধা ও রোগীদের খেয়াঘাটে ওঠানামা করতে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে কাদা মাখায় দূর্ঘটনার স্বিকার হয়েছেন অনেকেই।

স্থানীয়রা জানান, এসব খেয়া নৌকায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মোটরবাইক ও হাজার মানুষ পারাপার হয়। প্রতিবছর খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। অথচ যাত্রী ভোগান্তি কমিয়ে আনতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা। যাত্রীছাউনি এবং খেয়া নৌকা পাড়ে ভেড়ানোর সিঁড়িঘাট না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই।

অধিকাংশ খেয়াঘাটের পাড়ে মাটি কেটে যানবাহন ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢালু এ খেয়াঘাট দিয়ে ওঠানামা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকালে পুরো মাটির পথ কাদায় পিচ্ছিল হয়ে সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। যাত্রী ছাউনি না থাকায় গ্রীষ্মের গরমের দিনে ও বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় সামান্য বসে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গাটুকু পাওয়া যায় না।

আব্দুল মুতালিব নামের একজন পথচারী বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন কাজের সুবাদে আসতে হয় খেয়াঘাট পার হয়ে,তাছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। এদিকে আসা যাওয়া করতে খুব ভয় হয়। বর্ষাকালে একেবারে বিপজ্জনক অবস্থা থাকে। সরকারিভাবে একটি যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়ি ঘাট নির্মাণ করে দিলে সবাই উপকৃত হবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ জানান, খেয়াঘাট জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। এসব দেখভাল করে থাকেন জেলাপরিষদ। আমরা জেলা পরিষদকে যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট নির্মাণ করে দেওয়ার অনুরোধ জানাবো।

দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আল তানভীর আশরাফী চৌধুরী জানান, এসব খেয়াঘাট মূলত জেলাপরিষদের আওতাধীন। তবুও আগে যারা উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন উনাদের নজরদারীতে রাখলে জনগনকে এ কষ্ট করতে হতোনা। উপজেলার সবকয়টি খেয়াঘাটে যাত্রীদের দূর্ভোগ দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন