১১ এপ্রিল ২০২২


জৈন্তাপুরে গৃহবধূর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, স্বামী-ভাসুর আটক

শেয়ার করুন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : জৈন্তাপুর উপজেলার কেন্দ্রীমওজা গ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী ও ভাসুরকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জাহানারা আক্তার (২২) এই গ্রামের সাব্বির আহমদের স্ত্রী।

রোববার রাতে উপজেলা জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী গ্রামের ফখরুল মিয়ার ছেলে সাব্বির আহমদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অগ্নিকাণ্ড দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় জাহানারাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে তার শারীরিক অবস্থার খারাপ হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকায় প্রেরণের পরামর্শ দেন। ঢাকা নেওয়ার পথে জাহানারার মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাহানারার স্বামী সাব্বির আহমদ ও ভাসুর জুবায়ের আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির চোরাকারবার ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্ত বাহিনীর হাতে আটক হয়ে ভারতে ২ বছর কারাভোগ করে দেশে ফিরে। এ অবস্থায় আর্থিক অনটনের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এছাড়াও বড় ভাই জুবায়েরের সাথে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কও ছিলো- এমন দাবিও ছিলো সাব্বিরের। এই নিয়ে কিছুদিন হতে সংসারিক কলহও চলছে।

নিহত জাহানারা বেগমের পিতা জাহের মিয়ার অভিযোগ করেন, টাকার জন্য তার মেয়েকে চাপ দিতো সাব্বির। টাকা এনে দিতে সম্মতি না হলে তার উপর মিথ্যা অপবাদ দিতে থাকে এবং পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে আসছে। তার প্রেক্ষিতে সাব্বির পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, একটি ঘরে আগুন লাগলো অথচ আমার মেয়ে ছাড়া আর কারও কোনো ক্ষতি হলো না! তিনি ‘মেয়ে হত্যা’র সুষ্ঠু বিচার দাবি জানান।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রবিবার রাতেই স্বামী ও ভাসুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এছাড়া সিআইডি’র বিশেষ টিম রহস্য উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে স্বামী ও ভাসুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করছে।

শেয়ার করুন