৩০ জানুয়ারি ২০২২
বিনোদন ডেস্ক : সদ্য সমাপ্ত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ১৭৬ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ আক্তার ১৬৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু সেই পরাজয় না মেনে শনিবার দুপুরে তিনি আপিল বোর্ডে লিখিত আবেদন করেন পুনরায় ভোট গণনার জন্য। তাতে ফায়দা হয়নি। সন্ধ্যায় পুনরায় ভোট গণনায়ও জায়েদ খান জিতেছেন।
কিন্তু নিজের হ্যাট্রিক জয় উদযাপন করছেন না এই অভিনেতা। শনিবার ভোর চারটায় ফল ঘোষণার পরও তার মধ্যে কোনো উল্লাস দেখা যায়নি, সন্ধ্যায় পুনরায় ভোট গণনা করে তার জয় বহাল রাখার পরও জায়েদ খান নির্বিকার। কিন্তু কেন? এই জয়ে কি তিনি খুশি নন?
এর উত্তর হল, জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক পদে জিতলেও ওদিকে তার প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী খল অভিনেতা মিশা সওদাগর নিজের গদি খুইয়েছেন। তিনি হেরে গেছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে। সে কারণেই জয় উদযাপন করছেন না জায়েদ খান।
শনিবার সন্ধ্যায় এই অভিনেতার জয় চূড়ান্ত হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি জয়ী হলেও জয় উদযাপন করতে পারছি না। আমার সভাপতি মিশা সওদাগর ভাই পরাজিত হয়েছেন। আমরা বিগত চার বছর স্বামী- স্ত্রীর মতো ছিলাম। তার সঙ্গে আমার দারুণ বোঝাপড়া। আমরা একে অপরের পালসটা বুঝতে পারি। তার জন্য মনটা খুবই খারাপ।’
২০১৭-১৯ মেয়াদের নির্বাচনে প্রথম প্যানেল গঠন করেন ভিলেন মিশা সওদাগর এবং নায়ক জায়েদ খান। সে বার তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুটি পদই বাগিয়ে নেন। শিল্পী সমিতির দায়িত্ব সামলাতে শুরু করেন একসঙ্গে। এরপর ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচনেও মিশা সভাপতি এবং জায়েদ সাধারণ সম্পাদক হয়ে গত বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
কিন্তু ২০২২-২৪ মেয়াদে এসে ভেঙে গেছে তাদের সেই জুটি। ভিলেন মিশার সভাপতি পদ দখল করে নিয়েছেন নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে নিজের পদ ধরে রেখেছেন জায়েদ খান। এখন থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তাকে নতুন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের অনুমতি সাপেক্ষে এবং তার সঙ্গে পরামর্শ করেই শিল্পী সমিতির সব কাজ করতে হবে। তাই সাবেক সভাপতির জন্য মন কাঁদছে জায়েদের।
এর আগে ভোররাতে ফল ঘোষণার পরও একই ভাষায় নিজের অভিব্যক্তি জানান অভিনেতা। বলেন, ‘আমরা সবাই শিল্পী। আমাদের মধ্যে কোনো শত্রুতা নেই। নতুন সভাপতি এবং নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমি শিল্পীদের জন্য কাজ করব। নির্বাচনের জন্য দুটি প্যানেল দিতে হয়েছিল। কিন্তু আজ থেকে আমরা সবাই এক। তবে মিশা ভাইকে খুব মিস করব।’
শুক্রবার উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির ১৭তম নির্বাচন। ভোট শুরু হয় সকাল নয়টায়, শেষ হয় পাঁচটায়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৪২৮ জন। ভোট দেন ৩৬৫ জন। ফলাফল ঘোষণা হয় শনিবার ভোররাতে। ২১টি পদের মধ্যে এবার মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে ১১ জন এবং কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল থেকে ১০ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।