৩০ মার্চ ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : আবুল কাহের শামীম। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির প্রথম সদস্য। সভাপতি থাকা কালে জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাদের সাথে দুর্ব্যাবহার, দলের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরি সহ বিভিন্ন কারনে তার উপর ক্ষুব্দ ছিলেন সকল বলয়ের নেতারা। সব শেষে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির প্রথম সদস্য থাকা অবস্থায় উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড কমিটি পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। ওয়ার্ড কমিটি করতেও তার মতামত নিতে হত। আর এতে নিজের বলয়ের নেতাকর্মীদের কমিটিতে পদায়ন করতে গিয়ে বাদ পড়েন দলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা। এনিয়ে দলের অন্যান্য বলয়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। আর এই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটে জেলা বিএনপির কাউন্সিলে গোপন ভোটের মাধ্যমে। শামীম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীমকে নিয়ে যেমন বিতর্ক রয়েছে তেমনি বিতর্ক রয়েছে নব নির্বাচিত সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে নিয়েও। গত কাউন্সিলে বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে সিন্ডিকেট কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় আসেন কাইয়ুম চৌধুরী। তার একটি ফোনালাপে বালাগঞ্জ বিএনপিতে সিন্ডিকেট কমিটি করতে নিজের ভূমিকার সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি। তার পরও শামীম সিন্ডিকেটকে ডুবিয়ে দেয়ার ক্ষোভ থেকেই বিকল্প কোন প্রার্থী না থাকায় কাইয়ুম চৌধুরীকে বেছে নেয় শামীম বিরুধী সকল বলয়।
দলীয় সূত্রমতে, সবশেষ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের পর দলের আহবায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদারকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন আবুল কাহের শামীম। এর পর তার অনুসারীরা উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে দলের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এতে দলের সিংগভাগ যোগ্য, ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীদের স্থান হয়নি এসব কমিটিতে। কোন কোন ইউনিটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রদপ্রার্থী থেকে শুরু করে আহবায়ক কমিটিতে থাকা নেতারা পর্যন্ত ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য হতে পারেন নি। এসব বিষয় নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতারা এমনকি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের উপদেষ্ঠদের নির্দেশনাও অবজ্ঞা করেন তিনি। এরপর সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষনা করলে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান সিন্ডিকেট বিরুধী সকল বলয়ের নেতারা। এক পর্যায়ে কেন্দ্রর চাপে মেয়ল আরিফ প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ান। আরিফ সরে দাঁড়ানোর পর শামীম ও কাইয়ুমের মধ্যে বিশেষ বিবেচনায় শামীম সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে কাইয়ুমের পক্ষেই অবস্থান নেন সকল বলয়ের নেতারা। এতে কাইয়ুমের পালে লাগে জয়ের হাওয়া।
সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক এক সহ-সভাপতি ও সাবেক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার এলাকায় সিন্ডিকেট কমিটি নিয়ে আমরা আবুল কাহের শামীমের বাসায় গিয়েছিলাম। আমরা দলের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটি গঠন না করার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি তা কর্নপাত না করে আমাদেরকে অপমান করে তাড়িয়ে দেন। শুধু আমরাই নয় ১৮টি ইউনিটেই একই অবস্থা হয়েছে। ফলে কোন উপায় না পেয়ে সকল বলয়ের নিয়ন্ত্রক নেতারা কাউন্সিলরদেরকে কাইয়ুম চৌধুরীকেই ভোট দেয়ার নির্দেশনা দেন।
তবে সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে আবুল কাহের শামীমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।