২৩ মে ২০২২


হাজী সেলিমের এমপি পদের কী হবে?

শেয়ার করুন

আজকের সিলেট ডেস্ক : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দেড় দশক আগের একটি মামলায় ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে কারাগারে গেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। ফলে তার এমপি পদ থাকবে কি থাকবে না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘তিনি (হাজী সেলিম) দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার আর সংসদ সদস্য থাকার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান মোতাবেক তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না।’

সংবিধানের বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আইনপ্রণেতা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই কিংবা ততোধিক বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না এবং মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

তবে যেহেতু মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি তাই এখনই হাজী সেলিমের এমপি পদ নিয়ে চলে যাওয়ার মতো এখনও কিছু হয়নি বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক৷

এই আইনবিদ বলেন, ‘আদালত দেড় যুগ আগে হাজী সেলিমকে ১০ বছর সাজা দিয়েছিলেন, তার বিচারিক আদালতের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তাই তিনি আবার আবার হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময় এক মাস।’

এর ব্যাখ্যা দিয়ে শাহদীন মালিক বলেন, ‘আপিলের সঙ্গে আমরা একটা জামিনের আবেদন করি। তিনি জামিন চাইলে হয়ে যাবে। কারণ মার্ডার কেস হলে জামিন হয় না। এছাড়া দেশে তার সবকিছু আছে, গত দশ বছরেও তিনি পলাতক হন নাই। আইন মোতাবেক তার জামিন হয়ে যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট যেটা বলে সেটা আইন, সংবিধান যেটা বলে সেটা আইন না। সংবিধানে বলা আছে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। কিন্তু এটা বিচারিক আদালতে দণ্ড হলে, না হাইকোর্টে দণ্ড হলে সেটা তো বলা নাই। বিচারিক আদালতেও দণ্ড হয়েছে, হাইকোর্টেও সেটা বহাল আছে, কিন্তু বিচার তো এটা শেষ হয় নাই, কারণ আপিলের আগে তিনি নির্দোষ হতেও পারেন।’

শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘যদি হাইকোর্টের রায়ে তার সদস্য পদ কেড়ে নেয়, এক বছর পর আপিল বিভাগ তাকে নির্দোষ বললো, তখন কী হবে? কোনো আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে সেটা আমাদের রায়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় নাই। এবং এখানে পরষ্পর বিরোধী সিদ্ধান্ত আছে। এখন পর্যন্ত যে রায় হয়েছে তাতে চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার সংসদ সদস্য পদ যায় না।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘আপিল পেন্ডিং থাকা অবস্থায় তার সংসদ পদ বহাল আছে। আর এখন সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি থাকবে না, এই সিদ্ধান্ত কে নেয়?’

‘লক্ষ্মীপুরের এমপি পাপুলের কুয়েত শাস্তি হয়েছিলো, ওইটার গেজেট হয়েছিলো। স্পিকার তার পদ শূন্য ঘোষণা করেছে। স্পিকার এটা করতে পারেন না। এই ব্যপারে আইন আছে। আইন কেউ জানে না বুঝে না পড়ে না কাজ একটা করে যাচ্ছে।’

সংসদ সদস্য পদ যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এই আইনবিদ বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের পদ দুই ভাবে যায়—একটা কারাদণ্ড হলে, অন্যটা দলের বিরুদ্ধে গেলে। সংসদ সদস্য পদ থাকা না থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন স্পিকারকে জানাবে তার সংসদ পদ থাকবে কি থাকবে না। তারপর স্পিকার সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু পাপুলের সংসদ সদস্য পদ যাওয়ার সময় সেভাবে হয়নি।’

প্রসঙ্গত, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের যে মামলায় পুরান ঢাকার আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের সাজা হয়েছে সেটি ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দায়ের করা।

২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল বিশেষ আদালতের রায়ে তাকে মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে ‘সহযোগিতার’দায়ে হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগমকে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাজী সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন।

এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি হাজী সেলিমের ১০ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে গত বছর দেওয়া রায়টি প্রকাশ করা হয়। ৬৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যেখানে তাকে এক মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। কিন্তু হঠাৎই চিকিৎসার কথা বলে তিনি দেশত্যাগ করেন। পরে অবশ্য দেশে ফিরেও আসেন।

রোববার দুপুরে আত্মসমর্পণ করতে ঢাকার বিশেষ আদালতে হাজির হন এই সংসদ সদস্য। বেলা তিনটা ২০ মিনিটে তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। পরে আদালত হাজী সেলিমের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শেয়ার করুন