২ মার্চ ২০২২


ওসির সঙ্গে আড্ডা দেওয়া সেই আসামি গ্রেফতার

শেয়ার করুন

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল আজকের সিলেট ডটকম এর ‘থানায় ফেরারি আসামিকে নিয়ে ওসির মিষ্টিমুখ!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তুমুল বিতর্কের মুখে অবশেষে জকিগঞ্জে ওসি সঙ্গে আড্ডা দেওয়া চাঁদাবাজি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত সেই আসামিকে অবশেষে গ্রেফতার করলো পুলিশ। গ্রেফতার এটিএম ফয়ছল আহমদ দরগাবাহারপুরের আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি সিলেটের আদালতের (দায়রা-৪৮/২১) মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

সিলেট জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওসি মোশাররফ নতুন যোগদান করায় আসামিকে না চেনার কথা। তাছাড়া ওই আসামি অন্যদের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থানায় এসেছিলেন।

জানা যায়, পৌর এলাকার হারিছ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হারিছ উদ্দিন বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর এটিএম ফয়ছল আহমদকে অভিযুক্ত করে জকিগঞ্জ থানায় মামলা (নং-০২(১১)১৮ দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ওসির সঙ্গে আড্ডায় যোগ দিতে দেখা যায় গত ইউপি নির্বাচনে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী মুজিবকোট পরিহিত সোহেল আহমদ এবং কথিত সংবাদকর্মী শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বকুল ও তার দুই সঙ্গীকে।

মোশাররফ হোসেন ১৯ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জ থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদে যোগ দেন। তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য থানায় এসে ওসির কার্যালয়ে আড্ডায় মেতে ওঠেন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এটিএম ফয়ছল আহমদ।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত হলেও ফয়ছল আহমদ পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে চলেন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ওসির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টায় কথিত যুবলীগ কর্মী সোহেল ও সংবাদকর্মীদের নিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে থানায় যান। থানায় অবস্থানকালে তারা ওসির কক্ষে আড্ডায় মেতে ওঠেন, ছবি তোলেন।

সোমবার এ বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেনের সরকারি নম্বরে কল দিলে থানার ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্র সরকার ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘ওই ছবি স্যার যোগদানের পর ১৯ কিংবা ২০ তারিখের দিকে তোলা। তখন হয়তো ছবিটি প্রকাশ হয়নি। যে বা যারা ছবিটি ছড়িয়েছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়িয়েছে। সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, তা স্যার জানতেন না।

ওই বৈঠকে ওসি তদন্ত নিজেও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসি (তদন্ত) সুমন চন্দ্রের সঙ্গে আড্ডারতদের সুসম্পর্ক ছিল। নবাগত ওসি না জানলেও ফয়ছল যে মামলার আসামি, তা ওসি তদন্ত জানতেন। এরপরও তাকে গ্রেফতার তিনি উদ্যোগী হননি। নতুন ওসিকে বিতর্কে ফেলতে এমনটি করা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

শেয়ার করুন