৪ আগস্ট ২০২৩
খলিলুর রহমান : দেশে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে ডেঙ্গু জ্বর। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এবারই সব থেকে বেশি। ডেঙ্গুতে চলতিবছর ৭ মাসে ১৮৫ জন মারা গেছেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার আছেন ৪ হাজার ৩৯৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর (২০২২সালে) পূরো বছরে (১২ মাসে) ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৮১ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৩৮২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বাইরের ছিলেন ২৩ হাজার ১৬২ জন।
সিলেটে এ পর্যন্ত কেউ মারা না গেলেও জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩শ লোক। মশক নিধন না করায় মশকের ক্রমশ ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়াও যত্রতত্র মিলছে ডেঙ্গুবাহী মশা এডিসের লার্ভাও। এতে সিলেটে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট মহানগরের ৪২টি ওয়ার্ডেই কমবেশি ডেঙ্গু জ্বরের মশা এডিস’র লার্ভা পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নগরবাসী অভিযোগ করছেন- সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরের নালা-নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করায় মশার উপদ্রব বেড়েই চলছে। সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় ঘরে টেকা যায় না। এমনকি দিনের বেলাও মানুষ মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হয় ও দিনে ছাতছাত্রীদের লেখাপড়া করতে হয়। বাসাবাড়ি, নালা-নর্দমা ও বিভিন্ন স্থাপনায় পানি জমে থাকলেও তা’ অপসারণ করা হচ্ছে না।
তবে সিসিক কর্তপক্ষ বলছে- লোকবল সংকট থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং মশকনিধন কার্যক্রম শতভাগ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
মহানগরের মইয়ারচর, কুমারগাঁও আখালিয়া নতুনবাজার, আখালিয়া, কালীবাড়ি, পনিটুলা, উপশহর, কালীঘাট, নবাব রোড, ঘাসিটুলা, বেতেরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা স্তূপাকারে পড়ে আছে। আবার কোথাও উন্নয়ন কাজে মাসের পর মাসে পানি জমে রয়েছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। শতাধিক স্থানে উন্মুক্ত রয়েছে নালা-নর্দমা । এর বাইরে বিভিন্ন পরিত্যক্ত জলাশয় ও ফোয়ারায় এডিস মশা জন্মাচ্ছে। এসব স্থানই ডেঙ্গু মশার প্রজননক্ষেত্র বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করছেন।
সিসিকের পরিচ্ছন্নতা শাখা জানায়- নগর নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখতে অন্তত ৭০০ কর্মী প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনে যে সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন, তা পর্যাপ্ত নয়। মহানগরের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডেই কেবল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে।তাওেদর সংখ্যা ৪৭৬ জন । এর বাইরে সিটিতে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডে এখনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
লোকবলের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণে কাজ চলছে উল্লেখ করে সিসিকের পরিচ্ছন্নতা শাখার প্রধান হানিফুর রহমান বলেন- প্রতিদিনই বর্জ্য অপসারণ করা হয়। ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সিটি করপোরেশন পরিষদের সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। একেক দিন একেক ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেও তাতে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাচ্ছেন না। মশক স্থান বদল করে আবার ফিরে যায় পূর্বস্থলে।এ অবস্থায় একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিতেই মূলত সাধারণ পরিষদের সভা ডাকা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান- প্রয়োজনীয় লোকবল সংকটে মশার লার্ভা ধ্বংসে ব্যবস্থা নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। করপোরেশনে একজন কীটতত্ত্ববিদ নেই। এ ছাড়া মশক নিধনকর্মী রয়েছেন মাত্র তিনজন। তবে প্রতিদিন দৈনিক মজুরিতে ৪০ জন কর্মী নিয়োগ দিয়ে ৬টি স্থানে মশকনিধনের জন্য তাঁদের দিয়ে স্প্রে ও ফগার মেশিন দিয়ে কাজ করানো হয়। এর বাইরে ১২ জন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে লার্ভার অনুসন্ধান করছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন- ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে শনিবার (৫ আগস্ট) থেকে মহানগরের সব কটি ওয়ার্ডে একযোগে মশক নিধনের ওষুধ ছিনোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে মাইকিংয়ের প্রচারপত্রও বিলি করা হবে।