১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দখলকৃত ভূমি উদ্ধার অভিযানের সময় রেলের এক্সেভেটরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে৷
বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ফিল্ড কানুনগো ফারুক হোসেন বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলাটি দায়ের করেন৷
মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন- সোলেমান মিয়া, শাওন মিয়া, লোকমান হোসেন ও রাসেল মিয়া৷ এদের মধ্যে সোলেমান ও শাওন অপর অভিযুক্ত লোকমান হোসেনের ছেলে। তাদের বাড়ি শহরতলীর ক্যাথলিক মিশন সড়কে এবং অপর অভিযুক্ত রাসেলের বাড়ি শ্রীমঙ্গলের ছফেদ মিয়া সড়কে৷
অভিযুক্ত লোকমানের রেলওয়ের ভূমিতে (অবৈধ দখলকৃত) নিউ হাতিল ফার্ণিচার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷ আরেক অভিযুক্ত রাসেল মিয়ারও ওই ভূমিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে৷
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন ও আশপাশ এলাকায় রেলওয়ের ভূমি (অবৈধভাবে দখল হওয়া ভূমি) থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার জন্য একটি এক্সেভেটর আনা হয়৷ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এক্সেভেটরটি ভানুগাছ সড়কের উচ্ছেদ স্পটে পৌঁছা মাত্র অভিযুক্তরা এক্সেভেটরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ এতে এক্সেভেটরটির বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়৷
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শামীম অর রশীদ তালুকদার বলেন, ‘এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেলেমান মিয়া নামে একজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ অন্য অভিযুক্তদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে৷’
উল্লেখ্য, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গেলে বৃহস্পতিবার সকালে দখলকৃত ভূমিতে ব্যবসা পরিচালনা করা ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ে রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসন৷ রেলওয়ে তাদের ২.৮৭ একর জমি অবৈধ দখলে থাকার কথা বললেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ১.৪৭ একর জমিতে আদালতের স্থিতাবস্থা দেখিয়ে উচ্ছেদে বাধা দেয়। পরে শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আগামী মঙ্গলবারে স্থিতাবস্থার কাগজপত্র নিয়ে মামলার বাদীকে তার কার্যালয়ে যেতে বলেন। উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান৷
সর্বশেষ দীর্ঘ ৩৮ বছর পর গত ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর রেলের শতকোটি টাকার এই ভূমি উদ্ধার অভিযান চালায় বেল বিভাগ। শতাধিক আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় ২টি বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এতে শহরের প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ভানুগাছ সড়কের মুক্তিযোদ্ধা কৃষি নার্সারী প্রকল্প, অভিজাত রেস্টুরেন্ট, গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম, ফার্নিচারের শোরূম, সেলুন, চা পাতার দোকান, বাসা বাড়ি, ভ্যারাইটিজ ষ্টোর, ফার্মেসী, হার্ডওয়্যারের দোকান, ওয়ার্কসপ, ট্রান্সপোর্ট অফিসসহ শতাধিক পাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর রেল বিভাগের দেখভালের অভাবে এই জমিগুলো আবারো দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে দখলদাররা।