২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের চলাচলের জন্য সবকয়টি নদীতে আছে একটি করে খেয়াঘাট। উপজেলার চেলানদীর পূর্বচাইরগাঁও থেকে লুভিয়া ও কুনিমুড়া খেয়াঘাট। বাংলাবাজার ইউপির বাঘমারা, দোয়ারাবাজার সদর ইউপির আজমপুর ঘাট,দোহালিয়ার জঙ্গলশ্রী থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলা খেয়াঘাট ও আমবাড়ি বাজার থেকে আদারবাজার খেয়াঘাট।
এই সবকয়টি খেয়াঘাট দিয়ে উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মানুষকে প্রতিনিয়ত লেখাপড়া, অফিস, আদালত, চিকিৎসা সেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে নদী পার হয়ে উপজেলা সদর ও জেলা সদরে আসা-যাওয়া করতে হয়।
চেলানদীর খেয়াঘাট দিয়ে জেলার পশ্চিমাঅঞ্চল বিশম্ভপুর, তাহিরপুর, নেত্রকোনা এলাকার মানুষ পাথরের রাজধানী খ্যাত সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তলনের কাজে আসা যাওয়া করে। এসব খেয়াঘাটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীছাউনি ও সিঁড়ি না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। খেয়াঘাটগুলো যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটেছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে খেয়াঘাট গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ খেয়াঘাট গুলোতে নেই উঠা নামার সিঁড়ি এবং অনেকটাতে যাত্রী ছাউনির সিঁড়ি ভেঙে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে কয়েক বছর ধরে। মেরামত না থাকায় নদীর পাড়ের উচুঁ ঢালু পথ বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছেন লোকজন। খেয়া নৌকায় মালামাল ও মোটরবাইক ওঠানামা করতে চরম ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন যাত্রীরা। গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধা ও রোগীদের খেয়াঘাটে ওঠানামা করতে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে কাদা মাখায় দুর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন অনেকেই।
স্থানীয়রা জানান, এসব খেয়া নৌকায় প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মোটরবাইক পারাপার হয়। প্রতিবছর খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। অথচ যাত্রী ভোগান্তি কমিয়ে আনতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীছাউনি এবং খেয়া নৌকা পাড়ে ভেড়ানোর সিঁড়িঘাট না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই।
অধিকাংশ খেয়াঘাটের পাড়ে মাটি কেটে যানবাহন ও যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঢালু এ খেয়াঘাট দিয়ে ওঠানামা করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকালে পুরো মাটির পথ কাদায় পিচ্ছিল হয়ে সম্পূর্ণভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। যাত্রী ছাউনি না থাকায় গ্রীষ্মের গরমের দিনে ও বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় সামান্য বসে বিশ্রাম নেওয়ার জায়গাটুকু পাওয়া যায় না।
আব্দুল মুতালিব নামের একজন যাত্রী বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন কাজের সুবাদে খেয়াঘাট দিয়ে আসা যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। এদিকে আসা যাওয়া করতে খুব ভয় হয়। বর্ষাকালে একেবারে বিপজ্জনক অবস্থা থাকে। সরকারিভাবে এখানে একটি যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়ি ঘাট নির্মাণ করে দিলে সবাই উপকৃত হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাংশু কুমার সিংহ জানান, এসব খেয়াঘাট জেলা পরিষদ কর্তৃক ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। জেলা পরিষদই মূলত এসব দেখভাল করে থাকেন। আমরা জেলা পরিষদকে অনুরোধ জানাবো যাতে যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট জানান, আমার জেলা পরিষদের দায়িত্বের সময় এখন শেষ পর্যায়ে। নতুনভাবে দায়িত্ব পেলে সবকটি খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনি ও সিঁড়িঘাট নির্মাণ করে দেওয়া হবে।