২১ নভেম্বর ২০২১
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুরে আটজনকে অপরাধী উল্লেখ করে তাদের বাড়ির সামনে ‘মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি’ ও ‘চোরাকারবারির বাড়ি’ লিখে লাল সাইনবোর্ড টানিয়েছিল বিজিবি। স্থানীয়দের একটি অংশ এ উদ্যোগকে প্রশংসায় ভাসালেও নানা মহলে অভিযোগ ওঠে এতে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভিযুক্তদের পরিবার।
এনিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
এবার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল ঘটনাটি। আটটি লাল সাইন বোর্ডের দু’টি খুলে নেয়া হয়েছে। কারা সাইনবোর্ডগুলো খুলে নিয়েছে এটি এখনও নিশ্চিত না হলেও বিজিবির ধারণা সাইনবোর্ডগুলো খুলেছে চোরাকারবারিরা।
জানা যায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকার দু’টি সাইনবোর্ড কে বা কারা খুলে ফেলে। শনিবার সকালে বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন বিজিবিকে জানিয়েছেন। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
বিজিবি মনতলা সীমান্ত ফাঁড়ির সুবেদার আবু বক্কর বাংলানিউজকে জানান, সাইনবোর্ডগুলো কারা খুলে নিয়েছে তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত না। তবে ধারণা করা হচ্ছে মাদক চোরাকারবারিরাই এগুলো খুলে ফেলেছে।
গত সোমবার উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বলু মিয়া, রাজেন্দ্রপুরের আহাদ মিয়া, সিদ্দিকপুরের কবির মিয়া, রামনগরের ধনু মিয়া, কাউছার মিয়া, জয়নাল মিয়া, রাজু মিয়া ও কমলপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার বাড়িতে একটি করে সাইনবোর্ড টানায় বিজিবি। কোনো বাড়ির সামনে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ ও কোনটিতে ‘চোরাকারবারি’ লেখা সাইনবোর্ড। এতে লালের উপর সাদা রঙ দিয়ে লেখা অক্ষরগুলো দূর থেকেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে।
সাইনবোর্ড দেখতে আশপাশের এলাকার লোকজন বাড়িগুলোর সামনে এসে ভিড় করছেন। অপরাধীদের ভাল পথে আনতে এটি ভাল উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসীর একাংশ। কিন্তু এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে এটি নেতিবাচক উদ্যোগ বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তবে বিজিবি-৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসএনএম সামীউন্নবী চৌধুরী বলেন, ওই আটজন সীমান্তে মাদকসহ বিভিন্ন চোরকারবারের সঙ্গে জড়িত। একেকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা চিহ্নিত অপরাধী। অনেক চেষ্টার পরও তাদের অপরাধ জগৎ থেকে বের করা যাচ্ছে না। তাই সামাজিকভাবে চাপের মুখে থাকলে অপরাধমূলক কাজ ছেড়ে দিতে পারে, এই চিন্তা থেকে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। আদালতে আত্মসমর্পণ করলে সাইনবোর্ডগুলো খুলে নেওয়া হবে।