১৫ নভেম্বর ২০২১


বিয়ানীবাজারের ১০ ইউপিতে চুড়ান্ত হলো নৌকার মাঝি

শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : আগামী ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল নেতাদের ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার বিকালে পৌরশহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শেষে সন্ধ্যায় তিনটি ইউনিয়নে সমঝোতার ভিত্তিতে এবং সাতটি ইউনিয়নে ভোটাভুটির মাধ্যমে ফল ঘোষণা করা হয়।

বর্ধিত সভায় তৃণমূলের ভোটগ্রহণের পূর্বে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নৌকার মাঝি নির্ধারণে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। এতে সাড়া দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ভোটাররা। এক পর্যায়ে বিনাভোটে সমঝোতার ভিত্তিতে আলীনগর ইউনিয়নের সিলেট জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আহবান হোসেন খান শিশু, কুড়ারবাজার ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতা বাহার উদ্দিন এবং লাউতা ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এমএ জলিল মনোনীত হন।

পরে সমঝোতা না হওয়ায় উপজেলার অন্য ৭ ইউপির প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদক দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে নিজেদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

চারখাই ইউনিয়নে তৃণমূলের সর্বোচ্চ ১২ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমদ আলী, ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ গৌছ উদ্দিন।

দুবাগ ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১০ ভোট পেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য পলাশ আফজাল প্রথম হয়েছেন। ৬ ভোট পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও ৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাদির।

শেওলা ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ১৩ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন। ৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ খান ও ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা তারেক উদ্দিন।

মাথিউরা ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আমান উদ্দিন। ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে বর্তমান চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন এবং ৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক শহীদ পরিবারের সন্তান আলমগীর হোসেন রুনু।

তিলপারা ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিবেকানন্দ দাস বিবেক। ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন এবং ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক সাদেক আহমদ আজাদ।

মোল্লাপুর ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৮ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম। ৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ এবং ৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

মুড়িয়া ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৬ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির। ৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছাব্বির উদ্দিন এবং ৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ তারেক।

এদিকে, এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়ালের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান এবং প্রধান বক্তা ছিলে সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান।

জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা জানান, তিন ইউনিয়নের একক প্রার্থী এবং অন্য সাত ইউনিয়নের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নামের তালিকা দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে প্রেরণ করা হবে। সেখান থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী অর্থাৎ নৌকা মাঝি নির্ধারণ করা হবে।

শেয়ার করুন