২১ ডিসেম্বর ২০২১
ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি : ফেঞ্চুগঞ্জের দিনমজুর হারুন মিয়ার স্ত্রী লাভলী বেগম জানতেন না কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই ভিটে গ্রাস করে ফেলবে। শেষ আশ্রয়স্থল হারিয়ে পরিবার পরিজনকে নিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি। তিনি ভাঙ্গনের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পরিবারের সকলকে নিয়ে খোলা আকাশে সরকারী ভূমিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
শুধু লাভলী বেগম নয়, কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনের শিকার হয়ে ভিটে মাটি হারিয়েছেন অর্ধ শতাধিক পরিবার।
ফেঞ্চুগঞ্জ উজান গঙ্গাপুর গ্রামের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী গ্রামটি এখন ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের মুখোমুখি। নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় ঐ গ্রামের ১৫/২০ টি পরিবার ভিটে মাটিহীন হয়ে পড়েছে। ভিটেমাটিহীন লাভলী বেগমের স্বামী হারিন মিয়া জানান, সম্প্রতি তার বসতভিটে ভাঙ্গনের কবলে হারিয়ে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে পার্শ¦বর্তী একটি সরকারী জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। কয়েক বছর ধরে ভাঙ্গন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও গত দু’বছর ধরে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করাতে ভাঙ্গন এলাকায় বসবাসকারী লোকজন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।
উজান গঙ্গাপুর গ্রামের বৃদ্ধ মুছা মিয়া জানান, যাদের বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, তাদের আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ যে, তাদের পক্ষে অন্যত্র জমি কিনে বাড়ি করার সাধ্য নেই।
ঐ গ্রামের গৃহহারা লুলু মিয়া জানান, বসতভিটা কুশিয়ারা নদীতে বিলীন হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি নদীর তীরবর্তী খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। ভাঙ্গনের শিকার ঐ এলাকার দিনমজুর টুনু মিয়া,মনসুর আলী, হানিফা বেগম, মখদ্দছ আলী রুবেল মিয়া জানান, এক সময় তাদের পারিবারিক স্বচ্ছলতা ছিল। বসতভিটা, ফসলী জমি ছিল, কৃষি কাজই ছিল তাদের মূল পেশা। কিন্তু কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আজ তারা নিঃস্ব। কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে সব কিছু হারিয়েছেন উপজেলার সুলতানপুর, মানিককোনা, লামা গঙ্গাপুর এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেট-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ কুশিয়ারা বেসিনে নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সিলেট অঞ্চলে নদী ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প বর্তমানে ফিজিবিলিটি স্টাডি(সম্ভাব্যতা যাচাই) পর্যায়ে রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হলে তারা এ সংক্রান্ত প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো)-এর সদর দফতরে প্রেরণ করবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় ইমার্জেন্সী (জরুরী) কাজ টিকে না। এজন্য তারা এ বিষয়ে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের পক্ষে। তিনি বলেন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন রোধে পাউবোর মাধ্যমে গত আগস্টে একটি ডিপিপি(ডেভেলপম্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) পাঠানো হয়েছিল। ডিপিপি’র আলোকে একটি টেকনিক্যাল কমিটি ও একটি রিভিউ কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু, পরিকল্পনা কমিশনের নতুন নির্দেশনার আলোকে প্রকল্পের নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হচ্ছে।