২৩ অক্টোবর ২০২১
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : শায়েস্তাগঞ্জের আনাচে কানাচে শাকসবজি চাষে মনোযোগী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। সারাদেশে অস্বাভাবিক হারে শাকসবজির দাম বেড়েছে। সামনেই আসছে শীত, শীতের আগেই হরেকরকম শাকসবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস। তাই, শায়েস্তাগঞ্জের কৃষকরা দাম দিয়ে কেনা থেকে বাচতে নিজেরা মনোযোগ দিচ্ছেন সবজি চাষে।
অনেকেই বাড়ির আঙ্গিনায় বা উঠানে, বাসার ছাদে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঘাটতি পড়তে পারে শাকসবজি ও কৃষিখাদ্যের।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা যেন খাদ্য সংকটে না পড়েন সে জন্য বসতবাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কৃষি বিভাগ। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় শতাধিক কৃষক এই তালিকার আওতায় রয়েছেন। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের এ উদ্যোগের ফলে এই মহামারির সময় প্রান্তিক কৃষকদের খাদ্য সংকটে পড়তে হবে না। একদিকে যেমন কৃষকরা পুষ্টিকর শাক-সবজি উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে পারবেন, অন্যদিকে শাক-সবজির জন্য হাঁট-বাজারে তাদের যেতে হবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীত উপলক্ষে আগাম সবজিগুলো চাষ করার জন্য ইতোমধ্যে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের কৃষক ইজিহার মিয়া জানান, ‘আগে কচুর মুকি চাষ করেছিলেন, সেগুলো তুলে ফেলা হয়েছে। এখন জমি চাষ করে আলুর বীজ বপন করার জন্য তিনি জমি তৈরি করছেন।’
সুরাবই গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া জানান, ‘তিনি দুই একর জমিতে শিম, সরিষা টক পাতা লাগিয়েছেন। ইতোমধ্যে শিম গাছে শিম ধরেছে, শিম পেড়ে তাদের পরিবারের চাহিদা মিটে যায়।’
তিনি আরো জানান, ‘সবসময়ই মৌসুমি শাকসবজি চাষ করেন, তাদের পরিবারে সবজি কিনে খেতে হয় না।’
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর জানান, ‘শায়েস্তাগঞ্জে রবি মৌসুমে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি আবাদ হয়। এ বছর সবজি আবাদ আরও বাড়বে। পুষ্টি নিরাপত্তা ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য পারিবারিক সবজি পুষ্টি বাগান স্থাপনে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আসছে রবি মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ২৫ টি কৃষক পরিবার তাদের বসত বাড়িতে পারিবারিক সবজি বাগান স্থাপন করবে, এবং কৃষক প্রশিক্ষণে ও মাঠ দিবসে অংশগ্রহণকারীদেরকে সবজি চাষে উৎসাহিত করার জন্য আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সবজির বীজ ও ফলের চারা উপহার হিসাবে দিচ্ছি। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা করোনাকালে শাক-সবজির সংকটে পড়বে না বলে আশা করা যায়।