২৩ জুন ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব।
তবে মনোনয়ন দাখিলের পর হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসে তার প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জ করে বসেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরবারে গত ২০ জুন এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের শুনানি ছিলো মঙ্গলবার। কিন্তু ‘অভিযুক্ত’ হাবিবুর রহমান হাবিব নিজের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় বুধবার ১১টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
বুধবার এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে। আর এই রায়ের উপরই নির্ধারিত হবে আওয়ামী লীগের হাবিবের প্রার্থীভাগ্য।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কশিনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবু ইব্রাহিম (আইন-২) মুঠোফোনে সিলেটভিউ-কে জানান, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রার্থীতা চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে দুই প্রার্থীসহ দুপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে একটি পক্ষ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদির কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় বুধবার ১১টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার দুপুরের পরে আতিকের আইনজীবী প্যানেলের কয়েকজন সদস্য ঢাকাস্থ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তার সাংসদ প্রার্থী হওয়া বৈধ নয়- এ বিষয়টি তুলে ধরে অভিযোগ করেন জাপা নেতা আতিক।
নির্বাচন কমিশন অভিযোগের শুনানির দিন ধার্য করে মঙ্গলবার। মঙ্গলবারের শুনানিতে হাবিবের দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন আতিক। কিন্তু এর বিপরীতে হাবিব নিজেকে দুই দেশের নাগরিক নন- সেটি প্রমাণ করতে পারেননি। বরং তিনি ইলেকশন কমিশনে স্বীকার করেছেন বর্তমানেও তিনি দুই দেশের (বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য) নাগরিক।
সূত্র জানায়, হাবিব তার দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য বাংলাদেশস্থ যুক্তরাজ্য দূতাবাসে ‘সারেন্ডার’ করেছেন- মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে এমনটি দাবি করলেও এর স্বপক্ষে কোনো ডকুমেন্ট দাখিল করতে পারেননি। যে কারণে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত হাবিবকে সময় দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। বুধবার তাকে সকল কাগজপত্র কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে গতকাল রাত ও আজ সকালে কল দিলে তিনি ‘এখন ব্যস্ত আছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো’ বলে ফোন কেটে দেন।