১১ মে ২০২১
অতিথি প্রতিবেদক : সিলেটে নতুন ভ্যাকসিন না আসায় শেষ হয়ে গেছে করোনার ভ্যাকসিনের মজুদ। রোববার সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শেষ হয় এই মজুদ। ফলে ভ্যাকসিন নিয়ে চিন্তায় পড়ছেন নগর এলাকার প্রথম ডোজ নেয়া ১৫ হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দুদিনের ভ্যাকসিন প্রদানের আশ্বাস পেলেও সহসাই ভ্যাকসিন সংকটের শঙ্কা থেকে মুক্তি মিলছেনা নগরবাসীর। সিলেট বিভাগের চার জেলায় প্রতিদিনের হিসাবে যে ভ্যাকসিন মজুদ আছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। ফলে নতুন ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে বাকী ১ লক্ষাধিক ১ম ডোজধারীদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগে প্রথম চালানে ৪ লাখ ৪৪ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন আসে। এরপর দ্বিতীয় চালানে আসে আরো ১ লাখ ৯২ হাজার ভ্যাকসিন। বর্তমানে বিভাগে মজুদ আছে ২৫ হাজার ৫৭০ ডোজ ভ্যাকসিন। শেষ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১ম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৩ লাখ ৪৪২ জন। রোববার পর্যন্ত ২য় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৬৪ জন। ১ম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে সিলেট বিভাগে ভ্যাকসিন নিয়েছেন মোট ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৬ জন। সিলেট বিভাগে ১ম চালানে আসা ৪ লাখ ৪৪ হাজার ভ্যাকসিনের মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৯ ডোজ ভ্যাকসিন ফেরত পাঠানো হয়। ফলে সংকট আরো ঘনীভুত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের ন্যায় গত ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও চালু হয় করোনার ভ্যাকসিনের ‘গণটিকা’ কার্যক্রম। সেদিন থেকে সিলেট বিভাগে ১ম ডোজের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪১১ জন। এদের মধ্যে ১ম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৩ লাখ ৪৪২ জন ও ২য় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬৪ জন। এখনো ১ম ডোজ নিতেই বাকী আছেন ৭৪ হাজার ৭৬৯ জন। এর মাঝে ২য় ডোজের বাকী রয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৯৭৮ জন। আর সিলেট বিভাগে মজুত আছে ২৫ হাজার ৫৭০ হাজার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অক্সফোর্ডের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আনতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে গত বছরের পাঁচ নভেম্বর যে চুক্তি হয়েছিল তাতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন রফতানি করবে এবং সে অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভ্যাকসিন পায়নি। সর্বসাকুল্যে ভারত থেকে ভ্যাকসিন এসেছে মোট ১ কেটি ২ লাখ ডোজ। এর মধ্যে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি প্রথমে আসে ২০ লাখ ডোজ। সরকারের অর্থে কেনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালানে ২৫ জানুয়ারি আসে ৫০ লাখ ডোজ, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ আসে আরও ২০ লাখ ডোজ এবং সর্বশেষ গত ২৬ মার্চ আসে ১২ লাখ ডোজ। অর্থাৎ, ভারত থেকে কেনা ও উপহার মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট ভ্যাকসিন এসেছে ১ কোটি ২ লাখ ডোজ। দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় ডোজ। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য চুক্তির ৩০ লাখ এবং মার্চ মাসের ৫০ লাখ অর্থাৎ চুক্তির ৮০ লাখ, এপ্রিলের ৫০ লাখ টিকা এখনও দেশে আসেনি। মে মাসে ভারত থেকে টিকা আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে চীন সহ অন্যান্য দেশ থেকে ভ্যাকসিন আনার জোর চেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার পর্যন্ত সিলেট সিলেট সিটি এলাকায় প্রথম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে মোট ৫৯ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নগর এলাকায় করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন-কোভিশিল্ডের কোন মজুদ নেই। যাদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে তাদের সবার দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করতে সিলেট নগরে আরও ১৫ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন লাগবে।
যদিও ঈদের আগে দুদিন ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নগর এলাকার জন্য ২ সহস্রাধিক ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, শেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী নগরীতে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে দেড় হাজারের বেশি ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ রোববার সিলেট নগরীতে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জনকে। ভ্যাকসিন শেষ হওয়ায় দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন পাচ্ছেনা না প্রায় ১৫ হাজার জন। এদিকে ভ্যাকসিনের সংকটের কারণে গত ২৬ এপ্রিল সারাদেশে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হয়। বাংলাদেশে কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট গত মার্চে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনটির চালান বন্ধ করে দেয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র দুই চালান ভ্যাকসিন দেশে এসেছিলো।
সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, সিলেট জেলায় ৬ হাজার ডোজের মতো ভ্যাকসিনের মজুদ রয়েছে। মজুদে ঈদ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া যাবে। নতুন ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত সিলেটে দ্বিতীয় ডোজের টিকার জন্য ১ম ডোজ গ্রহণকারীদের অপেক্ষমাণ থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম বলেন, আমাদের কাছে থাকা ভ্যাকসিনের মজুদ শেষ হতে চলেছে। কবে নাগাদ ভ্যাকসিন আসছে সেটা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না। তবে আমাদের বিশ্বাস বুধবার চীনা থেকে ভ্যাকসিনের একটি চালান দেশে আসছে। সিলেট বিভাগে কিছু ভ্যাকসিন আসবে। যারা ১ম ডোজ নিয়েছে তাদেরকে চীন থেকে আসা ভ্যাকসিন থেকে ২য় ডোজ দেয়া যাবে কিনা সেব্যাপারে কোন নির্দেশনা এখনো আসে নাই।