৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : বরেণ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানকে নিজ জেলা সুনামগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মা’র পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
পীর হাবিরের ছেলে ছেলে তনয় আহনাফ ফাহমিন অন্তর জানান, সোমবার দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ পৌরসভা চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। জোহর নামাজের পর জেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা হবে। বেলা ৩টায় গ্রামের বাড়ি মাইজবাড়ি পশ্চিমপাড়া মাঠে সর্বশেষ জানাজার পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
পীর হাবিবুর রহমান ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন। গত বছর অক্টোবরে ভারতের মুম্বাই জাসলুক হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হন। ২২ জানুয়ারি তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হন। বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর পরামর্শে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনামুক্ত হওয়ার পর কিডনি জটিলতার কারণে তাকে ভর্তি হতে হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় স্ট্রোক করলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর শনিবার বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
পীর হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯৬৩ সালের ১২ নভেম্বর সুনামগঞ্জ শহরে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ১৯৮৪ সাল থেকে সাংবাদিকতায় তার হাতেখড়ি। রিপোর্টার হিসেবে দৈনিক বাংলাবাজার, যুগান্তর, মানবকণ্ঠ, আমাদের সময় পত্রিকায় কাজ করেছেন। রাজনৈতিক ও পার্লামেন্ট বিষয়ক রিপোর্টার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।
সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক বই লিখেছেন পীর হাবিবুর রহমান। তার বইগুলো পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ‘পোয়েট অব পলিটিক্স’, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা : অজানা ইতিহাস’, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ‘এক্সক্লুসিভ’, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘খবরের বারান্দা’, ‘টক অফ দ্য প্রেস’, ‘অফ দ্য রেকর্ড’, রাজনৈতিক কলাম সংকলন ‘রাজনীতির শেষ পেরেক’, ‘ভিউজ আনকাট’, উপন্যাস ‘জেনারেলের কালো সুন্দরী’, ‘বুনোকে লেখা প্রেমপত্র’, ‘মন্দিরা’ প্রভৃতি।