৮ মে ২০২১
ডেস্ক রিপোর্ট : পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকী। শেষ মুহূর্তে ঈদের বাজার জমজমাট হওয়ার বদলে অনেকটা ম্লান। কারণ সিলেটের মার্কেটগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নেই। চরম সংকট পছন্দসই পোষাকের। এতে হতাশায় ক্রেতারা, বিক্রেতাদেও মাঝেও নিরব হাহাকার। মাকের্টগুলোতে কাপড়ের শূণ্য তাকগুলো বলে দিচ্ছে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী কাপড় নেই।
করোনা পরিস্থিতির কারণে চলমান লকডাইন ও বর্ডার দিয়ে পণ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিলেটের মার্কেটগুলো পোশাক সংকটে পড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় পোশাক আমদানি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। সেই সাথে পছন্দ সই পোশাক না পেয়ে হতাশ ক্রেতারা। কারণ সিলেটে ক্রেতাদের পছন্দের অগ্রভাগে থাকে ভারতীয় পোশাক। এবার ভারতীয় পোষাক নেই। কিন্তু সিলেটের পোশাক বাজারে ভারতীয় ও বিদেশী কাপড়ের ‘কপি’ পোশাকে সয়লাভ। কিন্তু এগুলো মানহীন। এদিকে, পোশাকের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাপড়ের দাম বেশি। ঈদের বাজারে শতকরা ৭৫ ভাগ কাপড়ই থাকতো ভারতের। সেই জায়গায় গত দুই বছর ভারত থেকে কোনো পণ্যই আসছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে দেশীয় পোশাকের বাজারে এটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এবছর দেশীয় গার্মেন্টেসে তৈরি ভারতীয় ও পাকিন্তানি কাপড়ের কপি পোশাকই চলছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। রেডি আনরেডি ত্রি-পিস ও শাড়ির চাহিদাই বেশি। পাশাপশি দেশীয় সুতির কাপড়েরও চাহিদা রয়েছে। ভারতীয় জর্জেট, কাতান এবং পাকিস্তানি বারিস কাপড়ের চাহিদা বেশি। দাম বেশি নিলেও কপি পোশাকের কোয়ালিটি নিয়ে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা।
নগরীর শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপছে পড়া ভীড় ছিলো নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক বন্দরবাজার এলাকায়। তবে বেশির ভাগ মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে তেমন কোনো পদক্ষেপ নজরে পড়েনি। ভিড় ঠেলে মানুষের চলাফেরা, মাস্ক না পড়া, স্যানিটাইজার টানেল সহ প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই চলছে ঈদ শপিং।
সিলেট মিলেনিয়াম মার্কেটের প্রিয়ন্তী ফেব্রিক্সের ম্যানেজার প্রীতম সিংহ জানান, মার্কেটে কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য নেই। বেশির ভাগ কাস্টমারের চাহিদা ভারতীয় পোশাকের কিন্তু গত দুইবছর ধরে আমরা মাল আনতে পারছি না। এখন দেশিও কাপড় এবং ভারতীয় পোশাকের কপিই বেশি চলছে।
ব্লুওয়াটার শপিং সিটির নেহার ফেব্রিক্সেও বিক্রয় কর্মী সুমন আহমেদ জানান, করোনার কারণে লকডাউনে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। গত কয়েকদিন ধরে ব্যবসা কিছুটা হচ্ছে যে জায়গা ঈদের সময়টাতে সারাদিন লাখ দেড়লাখ টাকা বিক্রি হতো সেখানে কোনমদে ৩০/৪০ হাজার টাকা বিক্রি হয়।
ব্লু ওয়াটারে শপিং করতে আসা তামান্না ইসলাম জানান, চাহিদা মত পোশাক পাচ্ছি না। আমরা নেট ঘাটাঘাটি করে যেসব পোশাক পছন্দ করছি তা মার্কেটে নেই। আগে শুনতাম মোবাইল ইলেকট্্রনিক যন্ত্রপাতি কপি হতো শপিং করতে এসে জানলাম কাপড়ও কপি হয়। কিন্তু কপি কাপড়গুলো দেখছি দামের তুলনায় কোয়ালিটি ভালো না।
মহানগর ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেল, গত দুই তিনদিন ধরে ব্যবসা কিছুটা হচ্ছে। এবছর ব্যবসা খুব ভালো হবে আমরা তেমনটা আশা করছি না। কোনো মতে স্টাফ ও ব্যবসায়ীদের খরচটা বের করতে পারলেই আমরা খুশি। ভারতীয় পণ্য বাজারে না আসায় এটা আমাদের দেশের জন্য খুব ভালো হয়েছে। তবে কাস্টমাররা হতাশ। কাপড়ের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, সুতা সহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে।
শপিংমলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি শপিংমলের সভাপতি সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যেন মার্কেট খোলেন। কিছু মাকের্ট কমিটি তারা নির্দেশনা মানছেন। আবার কিছু মানছেন না। ইতোপূর্বে একটি শপিং সেন্টারকে স্বাস্থ্যবিধি না মানার জন্য জরিমানা ও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা বার বার বলে দিয়েছি। এখন যারা মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিলে আমরা তাদের কোনো দায় দায়িত্ব নিব না ।