১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
করোনাকালে বেড়েছে আত্মহত্যার প্রবণতা। এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায়। খবরটি যখন প্রকাশিত হলো, তখন দেশে করোনার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা প্রতিষেধক টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। তাছাড়া, করোনায় আক্রান্তের হারও কমে আসছে। এটা একটা অর্জন আমাদের জন্য যে, বিশ্বের অনেক দেশই যেখানে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে পারে নি সেখানে বাংলাদেশের মানুষ টিকা নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। অর্থাৎ করোনার বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধির একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বিশেষ করে আমাদের দেশে। এই প্রেক্ষাপটেই আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির খবরটি সত্যি উদ্বেগজনক।
একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপের তথ্য হচ্ছে, করোনাভাইরাস মহামারির সময় দেশে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ২০২০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এক হাজার ৫৮ জন। আগের নয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিলো নয়শো’ ৪০ জন। বিশেষ করে, করোনাকালে নারীদের আত্মহত্যার হার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার সময় ঘরে আবদ্ধ থাকার কারণে মানসিক জটিলতা বাড়ায় আত্মহত্যা বেড়েছে। আবার এই সময়ে ঘরোয়া সহিংসতাও বেড়েছে দশ দশমিক তিন শতাংশ। তবে এই সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেছে সাত শতাংশ, শিশুর প্রতি সহিংসতা কমেছে ২৪ শতাংশ। তবে শুধু করোনাকালেই নয়, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেই আত্মহত্যার যে প্রবণতা রয়েছে সমাজে তা সত্যি উদ্বেগজনক। নানা কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা, অস্থিরতা, অশান্তির সৃষ্টি হয়। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে মানুষ এক পর্যায়ে আত্মহত্যাকেই ‘সংকটমুক্তির’ উপায় বলে মনে করে। আত্মহত্যার প্রবণতা রয়েছে সকল বয়সের মানুষের মধ্যেই। তবে তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। আর করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারির ধকল মানুষের মধ্যে একটা স্থায়ীভাবে রেখাপাত করেছে, এটা বলাই যায়। যে কারণে বেড়েছে আত্মহত্যার হার।
সবকিছু পরে বেঁচে থাকাই আসল কথা। বিপর্যয়, দুর্ভোগ, বিপদ-আপদ মানুষের জীবনে আসবে। এটাকে কাটিয়ে ওঠার মানসিক শক্তি অর্জন করতে হবে। [মহান সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে সব ধরণের প্রতিবন্ধকতাকে টপকে অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছে যাওয়ার দৃঢ় মনোবল অর্জন করতে হবে। বিপদের কাছে আত্মসমর্পন করে, হেরে যাওয়া কিংবা পরিণতিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া, কিছুতেই সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে কাম্য হতে পারে না। আর আত্মহত্যার প্রবণতা একটি রোগ হিসেবেও অভিহিত করেছেন গবেষকগণ। এই রোগের চিকিৎসা হচ্ছে ধংসস্তূপের মধ্যে দৃঢ় পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয়। এজন্য পারিবারিকÑসামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা খুবই জরুরি।