১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১
ডেস্ক রিপোট : কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। প্রতিবেদনে উঠে আসা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে দলটি।
বুধবার বিকালে দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই দাবি জানান।
দাবি জানিয়ে মোশাররফ বলেন, ‘আল-জাজিরার প্রতিবেদন শাসনের অভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন তথা দুঃশাসনের এক বিশাল ক্যানভাসের কেবলই ক্ষুদ্র চিত্র, রাষ্ট্র ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও মাফিয়া সংস্কৃতির এক অতি ক্ষুদ্রাংশ। রাষ্ট্রযন্ত্রকে কুক্ষিগত করে ক্ষমতার দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখার ভয়ানক প্রক্রিয়ার এক অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ এবং লাগামহীন সাগরসম দুর্নীতির একটি ট্রিপ অব দ্য আইসবার্গ। দেশের চলমান এই শ্বাসরুদ্ধকর বাস্তবতায় বিএনপি এটাই মনে করে।’
দলের পক্ষ থেকে এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘সাতটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাকে এই বিষয়ে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে জাতিসংঘ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার প্রতি বিএনপি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছে এবং জাতিসংঘকে তার নিজস্ব পদ্ধতিতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আশু তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে সরকার আল জাজিরার পুরো প্রতিবেদনকেই মিথ্যা ও বানোয়াট বলে নাকচ করে দিয়ে্ছে। অপরদিকে দায়সারাভাবে জাতিসংঘের কর্তৃক তদন্ত আহ্বানে অনাপত্তি জানিয়ে বলেছে, ‘তদন্ত হতেই পারে, এ ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আবার অন্যদিকে আল জাজিরার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে তথ্যগত ভুল আছে, সেগুলো আমরা তুলে ধরবো এবং আমরা মামলা করবো।’
ড. মোশাররফ বলেন, ‘আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না করেই সরকার প্রতিবেদনটিকে ঢালাওভাবে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অথচ সঠিক তথ্যের প্রকাশই হচ্ছে ভুল তথ্যের জবাব। আর অপপ্রচার থেকে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের উপায়ও হচ্ছে আসল সত্য তুলে ধরা। কিন্তু সরকার প্রতিবেদনের মূল বিষয় বস্তু উহ্য রেখে খণ্ডিত তথ্য অথবা প্রান্তিক বিষয়ের ওপর ভর করে ‘ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব’ প্রকাশ করে চলছে।যদিও তথ্যচিত্রটি সম্প্রচারের আগে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল, যা তারা উপেক্ষা করেছে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গর্ব। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে গড়ে উঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের অহংকার। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে অকাতরে কাজ করে যাওয়া দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বদা জনগণের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দুর্নীতি বা নৈতিকতা বিবর্জিত কর্মের কারণে রাষ্ট্রের সংবেদনশীল এই মহান প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ।