৫ আগস্ট ২০২০
ডেস্ক রিপোর্ট : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া সিলেট নগরীর আম্বরখানায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন ৩নং মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক শেরীন।
বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুল হক শেরীন অভিযোগ করে বলেন, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরীর আম্বখানায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে গণমাধ্যেমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আমাকে মানসিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন।
কোরবানির চামড়া নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১ আগস্ট ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। এই ঈদের সময় মুসলমানরা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। আমার নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ৩নং মিরপুর ইউনিয়নটি প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এই এলাকার শত শত মুসলমান এদিন পশু কোরবানি দিয়েছেন, যার অধিকাংশ কোরবানি সম্পন্ন হয়েছে প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসন সভা করেছে। সভায় সরকারের নির্দেশনার অন্যতম ছিল কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া কোনোভাবে নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। কোনো অবস্থাতেই কোরবানির চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা যাবে না। ভাসিয়ে দেওয়া যাবে না নদীতে। জনপ্রতিনিধিরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন।
তিনি বলেন, সরকারের ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঈদের দুইদিন আগে থেকে এলাকায় কাজ শুরু করি। আমার ইউনিয়নের প্রত্যেক মেম্বার ও মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হয় কোনোভাবেই চামড়া নষ্ট করা যাবে না। এ বিষয়ে প্রতিটি মসজিদ থেকেও মাইকিং করা হয়। কোরবানির পশুর চামড়া সাধারণত মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করা হয়। স্বাভাবিক নিয়মে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ, এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করেন। কয়েকজন ডিলার চামড়া ক্রয় করার আশ্বাস দেন। ঈদের দিন দুপুরের দিকে আগ্রহী ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করে চামড়া ক্রয়ের সিদ্ধান্ত জানতে চান মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার লোকজন। কিন্তু আগ্রহী ডিলাররা জানিয়ে দেন তারা চামড়া ক্রয় করবেন না। এ অবস্থায় পশুর চামড়া বিক্রেতারা বিপাকে পড়েন। তারা আমার সাথে যোগাযোগ করেন। আমি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করি। কিন্তু কোনো ডিলারই চামড়া ক্রয়ে আগ্রহ দেখাননি। শেষ পর্যন্ত সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ওই চামড়া সিলেটে এনে বিক্রি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সকল মাদরাসা, মসজিদ ও এতিমখানার চামড়া জড়ো করে ৪টি ট্রাকযোগে সিলেটে পাঠাই।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুবুল হক শেরীন বলেন, মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার ৬৩০টি চামড়া আমার নিজ অর্থায়নে সিলেটে প্রেরণের ব্যবস্থা করি। বিভিন্ন আড়তে নিয়ে ওই চামড়া বিক্রয়ের চেষ্টা করা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত চামড়া বোঝাই ট্রাক সিলেট নগরীর প্রতিটি ডিলারের দোকানে গেছে। কিন্তু কেউ চামড়া ক্রয় করেননি। রাত ১২টার দিকে ওইসব চামড়া সিলেট নগরীর আম্বরখানার একটি প্লটে নিয়ে রাখা হয়। রাতেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় চামড়াগুলো প্রক্রিয়াজাত করার। এজন্য লবণ সংগ্রহ করা হয় ৫ বস্তা। রাতে আর কোনো লবণ পাওয়া যায়নি। রাতেই চামড়াগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু হয়। পরদিন রোববার সকালে আরও ৩৫ বস্তা লবণ ও শ্রমিক সংগ্রহ করি। কিন্তু লবণ ও শ্রমিক আসার আগেই চামড়াগুলো সিজ করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি আরও বলেন, রোববার বেলা ১ টা ২৪ মিনিটে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আমাকে ফোন করেন। ফোন করে চামড়ার বিষয়ে জানতে চান। আমি মেয়র সাহেবকে জানাই চামড়াগুলো মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার। এগুলো বিক্রি করতে না পারায় প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। কিন্তু মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী অনেকটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন চামড়াগুলো সিজ করা হলো। এসময় তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়র সাহেবকে পুরো বিষয়টি বলার পরও তিনি চামড়াগুলো ডাম্পিং ইয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। এর আগে তিনি আবাসন কোম্পানির ফটক ভেঙ্গে ফেলেন বুলডোজার দিয়ে। মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার ওই চামড়া নিয়ে এখন আমি বিব্রতকর অবস্থায় আছি।
মাহবুবুল হক শেরীন বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রচারমাধ্যমকে বলেছেন, জগন্নাথপুর থেকে হাজার হাজার চামড়া সিলেটে এনে ডাম্পিং করছেন চেয়ারম্যান। মেয়রের ওই বক্তব্য অসত্য। এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে প্রচারমাধ্যমে সিসিক মেয়রের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে ওই গণমাধ্যমকর্মী ৬০০ চামড়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতি মুহূর্তে দলীয় কর্মীদের নানা ধরণের দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে একজন চেয়ারম্যান ও দলের সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। করোনাকালে ও বন্যা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি দুস্থ মানুষের দিকে। দলীয় কর্মীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন পাশে থেকে। ঈদ উপলক্ষে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমাকে মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া একটি অঞ্চলের প্রতি সিসিক মেয়র যে আচরণ দেখিয়েছেন তা অবশ্যই ঘৃণিত।
সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন, জগন্নাথপুর মদিনাতুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাসুদুর রহমান, বোর্ডিং সুপার মাওলানা হুসাইন আহমদ, জামেয়া ইসলামিয়া লহড়ি মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মিজানুর রহমান, ৩নং মিরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুস শহীদ প্রমুখ।