১২ জুন ২০২০


দারাগাঁও চা বাগানের দুস্থ শ্রমিকরা পায়নি সরকারি প্রণোদনা

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : দুস্থদের জন্য সরকারিভাবে বণ্টনকৃত প্রণোদনা থেকেই বাদ পড়েছেন দুস্থরা। চুনারুঘাট উপজেলার ফিনলে চা কোম্পানির দারাগাঁও চা বাগানের দুস্থ ও গরীব চা শ্রমিকরা পাননি সরকারিভাবে প্রদান করা জনপ্রতি ৫ হাজার টাকার প্রণোদনা। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে চা বাগানের সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের মাঝে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের তালিকায় দুস্থ ও গরিব চা শ্রমিকদের না রেখে তাদের পছন্দমতো অধিকতর স্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে সেই টাকা বণ্টন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়; কেউ কেউ আবার দু’বার করেও টাকা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, দারাগাঁও চা বাগানে ৩৫০ জন এবং ফাঁড়ি বাগান হাতিমারাতে ১০০ জনসহ মোট ৪৫০ জন দুস্থ চা শ্রমিকদের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৫ হাজার টাকা করে মোট ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গরিব ও দুস্থদের পাওয়ার কথা।

দারাগাঁও চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য স্বপন চাষা বলেন, কেউ কেউ সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছে আবার কেউ কেউ পায়নি। পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি প্রেমলাল আহির নিজের মতো তালিকা করে বণ্টন করেছেন। আমাদেরকে তার সাথে রাখেনি।

হতদরিদ্র চা শ্রমিক লক্ষ্মী ছত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের দুখের কথা আর শুনবেন বাবু? আমার স্বামী নাই। আমি কুষ্ঠ রোগী। কামকাজ করছে পারি না। এক মেয়েকে নিয়ে এক বেলা খাই তো আরেক বেলা খাই না। শুধু এই বার না; কোনো বারই সরকারি কোনো সাহায্য আমি পাইনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই বাগানের কুন্তি মাল বাকতি (৩২), স্বামী- রোহিত মাল বাকতি ২ বার করে দুই কিস্তিতে ১০ হাজার টাকা সরকারি প্রণোদনা ভাতা পেয়ে গেছেন। এছাড়াও রবিলাল রবিদাস (৪০) এবং তার স্ত্রী লক্ষ্মী রবিদাস এক পরিবার থেকে দুজনেই ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন। ২৫টা বা ৫০টা কখনো আরো বেশি করে নামের তালিকা বাবদ মোট টাকার পরিমাণ জনপ্রতিনিধিদের মাঝে ভাগাভাগি হয়ে গেছে বলে জানা যায়।

চা বাগানের বড় সাহেবের বাঙলোতে (বাগানপ্রধানের বাসভবন) পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন সুমন নায়েক (৩০)। তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা সাতজন। কিন্তু সরকারি ৫ হাজার টাকার সাহায্য একেক পরিবার থেকে দুজন আবার কখনো একেক জন দু’বার করে পেলেও আমি এক টাকাও পাইনি।

লাচিয়া রবিদাস, রেখা চাষা, রিমা মাল, আদরমনি রিকমন, অমলা মাল, বিনতা রিকমন, জসদা ভূমিজ, কুঞ্জলতা রিকমন, সুন্দরমণি কল, স্বপ্না রায় ঘাটোয়াল, বিপুলা গোয়ালা, কৃষ্ণ রেলি মানরাজী, মঙ্গল কল, ভুট্ট রায় রাটোয়াল এরা সবাই দারাগাঁও চা বাগানের কর্মহীন, বিধবা এবং অসুস্থ। এরা প্রত্যেকেই দুস্থ। এরা কেউই ৫ হাজার টাকা করে সরকারি প্রণোদনা ভাতা পায়নি।

সাটিয়াজুরী ইউপি’র সাবেক মহিলা মেম্বার শান্তি রানি আচার্য অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এখানে ৫ হাজার টাকা করে সরকারি প্রণোদনা ভাতা প্রকৃতপক্ষে যাদের পাওয়ার কথা তারাই পায়নি। আমি জানতে পারছি দুস্থ-গরিবদের বিপরীতে একেক ঘরে দু-তিন করে স্বাবলম্বীরাই এ প্রণোদনার অর্থ পেয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি প্রেমলাল আহির বলেন, আমি এখন ব্যাংকে ব্যস্ত আছি; এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না।

ফিনলে দারাগাঁও ডিভিসনের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ শাহিন বলেন, এটা শ্রম অধিদপ্তরের ব্যাপার তো। তারা চা বাগানের পঞ্চায়েতকে এটা বণ্টন করার জন্য দেয়। পরে হচ্ছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বার। তবে আমার এখানেও কোঅপারেশন (সমন্বয়) থাকে। সত্যিকারের দুস্থ-গরিব চা শ্রমিকরা এই সরকারি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরও সাহায্য করা হবে।

শেয়ার করুন