৬ জুলাই ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক কর্তৃক অবৈধ অনুপ্রবেশজনিত সীমান্ত হত্যা বন্ধে সমন্বিত ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে সীমান্তবর্তী হতদরিদ্র লোকজনকে স্বাবলম্বী করতে ‘আলোকিত সীমান্ত’ নামে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল আহমেদ ইউসুফ জামিল পিএসসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, চলতি বছর থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র লোকজন স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। এ জন্য উদ্যোক্তাও খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জনসাধারণের গরু ও সুপারি চোরাচালান, আনারস, কাঁঠাল চুরি ইত্যাদি কারণে অবৈধভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে গমনাগমনের মাত্রা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে অনেকে হতাহত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি’র পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা, অনাকাঙ্খিত সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে প্রতিপক্ষ বিএসএফকে নিন্দামূলক প্রতিবাদলিপি প্রেরণসহ অপরাধী/হত্যাকারী খাসিয়া নাগরিকদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে তাগাদা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ নিরুৎসাহিত করার জন্য সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা অর্থনৈতিকভাবে তাদের স্বাবলম্বী করা।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক মন্দা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হ্রাসের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার জনসাধারণ কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বিশেষত করোনা পরিস্থিতিতে তাদের জীবন-জীবিকা আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। এ বিবেচনায় সীমান্তবর্তী জনগণকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত রাখা খুবই জরুরী।