৮ জুন ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ‘রেড জোন’ সিলেটে বন্ধ হচ্ছে গণপরিবহন। একই সাথে বন্ধ থাকবে শপিং মলও। এছাড়া আরও বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিবেচনায় চিহ্নিত করা লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকা পরিচালনা করার গাইডলাইন ঠিক করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় একটি কমিটির অধীনে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলের নেতৃত্বে পুলিশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে লকডাউনসহ অন্যান্য বিষয় বাস্তবায়িত হবে।
এর আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেশের সিলেটসহ তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শনিবার সর্বশেষ আপডেট করা তালিকায় সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন হয়েছিল। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সিলেট জেলা প্রশাসনে এ সম্পর্কে কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে জোন ভিত্তিক এলাকা পরিচালনা করার গাইডলাইনে ‘লাল এলাকার’ মানুষদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকবে। শপিং মল বন্ধ থাকবে। গণপরিবহন চলাচল করবে না, এমনকি এই এলাকায় স্টপেজও থাকবে না। তবে কেবল রাতে মালবাহী যান চলাচল করতে পারবে।
এলাকার মসজিদে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। মানুষের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করার জন্য ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুসরণ করে সড়ক ও গলির মুখ বন্ধ করা হবে। এছাড়া মহল্লার ভেতর আড্ডাও বন্ধ থাকবে।
এলাকায় কাঁচাবাজারের জন্য নির্ধারিত ভ্যান সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। আর লকডাউন এলাকায় বস্তি থাকলে দুই সপ্তাহের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা রয়েছে গাইডলাইনে।
এ এলাকার করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ভূমিকা পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, সিলেটে করোনার বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব রক্ষায় জোরদার অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন। সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় চালানো হবে এসব অভিযান। এর জন্য জেলা প্রশাসন গঠন করেছেন ৭টি স্পেশাল টিম।
তবে এর জন্য নতুন করে লকডাউন নির্দেশনা আসছে না, আগের নির্দেশনার ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হবে জানিয়ে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট (এডিএম) এ.এইচ.এম মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, লকডাউনের জন্য নতুন কোনো নির্দেশনা আসবে না। আগের নির্দেশনার ভিত্তিতেই এখন ‘রেড জোন’ সিলেটে অভিযান চালানো হবে। এ সময় অভিযানকারী টিমের নেতৃত্ব দানকারী ম্যাজিস্ট্রেট লোকজনকে বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে না হতে নিরুৎসাহিত করবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় মঙ্গলবার থেকে এসএমপি’র ৬টি থানা পুলিশের সহায়তায় মহানগর এলাকায় ৭টি টিমে ভাগ হয়ে জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে জেলা প্রশাসন। এছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে কঠোরভাবে অভিযান চালাতে নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।