২ এপ্রিল ২০২৩


ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধানে ‘শীষ ব্লাষ্ট’ রোগের আক্রমণ

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : হাওর বেষ্টিত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধানক্ষেতে ছত্রাকজনিত শীষ ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গত বছর বন্যায় বোরো ধানের ফলন হারানোর পর  এবছর বি-২৮জাতের বোরোতে ভরসা রাখা কৃষকদের এখন ঘিরে ধরেছে ধান হারানোর আশঙ্কাও। ফলে দুঃশ্চিন্তায় কাটছে তাদের দিন।

স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্লাস্ট রোগের প্রধান কারণ হলো আবহাওয়া জনিত তারতম্য। বিশেষ করে দিনে তাপমাত্রা বেশি আর রাতে ঠান্ডা পরায় এ রোগের সৃষ্টি। এ রোগ অতিতেও ছিল তবে নিয়ম অনুযায়ী সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক ওষুধ স্প্রে করা হলে এরোগ থেকে পরিত্রান পাওয়া যেত।

এরোগ সাধারণত বি-২৮ জাতীয় ধানে বেশিরভাগ আক্রমণ করে। এ-জাতীয় ধানের প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাওয়ার কারণে অধিক পরিমাণে আক্রান্ত হয়। এছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত  ইউরিয়া সার প্রয়োগে এরোগ সহজে আক্রমণ করে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে গোয়াইনঘাট উপজেলা ৯ হাজার  ৩৫০হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান ও আবাদ হয়েছে। অন্য জাতের ফলন ভালো হলেও ব্রি-২৮ জাতের ক্ষেতে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে ব্লাস্ট রোগ। এতে অধিকাংশ জমির ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে গেছে। আক্রান্ত জমিতে শীষ থাকলেও তাতে নেই চাল।

উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক মজর আলী  বলেন, ‘আমাদের এলাকায় যারাই এবার ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন, তাদের সবার ফসলই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এছাড়া উপজেলার সর্বত্র বহু ধানক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। মিত্রিমহল গ্রামের কৃষক শাহীন,বদরুল ইসলাম সহ অনেকে জানান যারাই আগাম জাতের ব্রি-২৮ ধান আবাদ করেছেন, তাদের সবার ক্ষেতেই কমবেশি এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে একমাত্র ফসল বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল হাওর পাড়ের কৃষকগণ।

শেয়ার করুন