১৩ জানুয়ারি ২০২০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসেন আহমেদ রাসেলকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সিনিয়র জুডিয়াল বেলাল উদ্দিনের আদালতে হাজির হলে তাকে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের কর্মচারী জাকারিয়া তাঁর ছোটবোনের বিয়ের কাঠের আসবাবপত্র পৌর শহরের ষোলঘর এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে ক্রয় করে ট্রাকে তোলার সময় রাস্তায় সামান্য জ্যামের সৃষ্টি হওয়ায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল ট্রাক চালককে গালিগালাজ করেন এবং এক পর্যায়ে মারধর শুরু করেন। তখন জাকারিয়া এগিয়ে গেলে তাঁকেও বেধরক মারধর শুরু করেন কাউন্সিলর হোসেন আহমদ রাসেল।
কাউন্সিলর তখন মাতাল অবস্থায় ছিলেনও বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এসময় জাকারিয়া নিজেকে ডিসি অফিসের কর্মচারী হিসেবে তাঁর পরিচয়পত্র দেখিয়ে মারধর না করতে অনুরোধ করলেও হোসেন আহমেদ রাসেল তাকে মারধর করেন এবং পরে তাকে পৌরসভায় নিয়ে আবার মারধর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় প্যানেল মেয়র হোসেন আহমেদ রাসেল হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সুনামগঞ্জ চিফ জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হলে আদালত তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।
কোর্ট পরিদর্শক আশিক সুজা মামুন বলেন, হাইকোট থেকে নেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি আদালতে উপস্থিত হন, এসময় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এছাড়া, সুনামগঞ্জ প্যানেল মেয়র ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হোসেন আহমদে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন ও হোসেন আহমেদ রাসেল গেল বছরের ৪ এপ্রিল রোহিঙ্গাদের ভুয়া জন্ম নিবন্ধনে সহায়তা করার অপরাধে পুলিশ বাদী হয়ে হোসেন আহমেদ রাসেলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।