১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
উপজেলা প্রতিনিধি

ওসমানীনগর : কুশিয়ারা নদীর ওসমানীনগর অংশ থেকে বালু উত্তোলন করায় নদীর পারের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙ্গন আতংক দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নিরবতায় প্রভাবশালীরা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন নদী থেকে হাজার-হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। ফলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর সেতুসহ অর্ধ শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ও ফসলি জমি হুমকিতে রয়েছে। ভুক্তভোগীরা বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে দিন মজুর ও খেটে খাওয়া লোকজনকে শাস্তি প্রদান করলেও মূল হোতারা রয়েছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে কুশিয়ারা নদীর ওসমানীনগরের আলীপুর ও উপজেলার সীমান্তবর্তী বালাগঞ্জের ঐয়া এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে কুশিয়ারা নদীর উপর নির্মিত শেরপুর সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুর অ্যাপ্রোচ অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েক মাস আগে এই ফাটল অংশে মেরামতের কাজও করা হয়েছিল।
এছাড়া অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ওসমানীনগরের তাজপুর, সুরিকোণা, খছরুপুর, বালাগঞ্জ সদর বাজার, রাধাকোণা, হামছাপুর, কিত্তে জালালপুর, জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীগঞ্জ উপজেলার পারকুল গ্রাম, পারকুল গ্রামস্থ বিদ্যুৎ পাওয়ার প্লাট, শেরপুর ব্রীজের আশপাশ এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারাও আতংকে দিনাতিপাত করছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার কঠোর হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন নদীর তীরবর্তী লোকজন।
সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের নিকট বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে ঐয়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরুজ মিয়া, খছরু মিয়া, আলীপুর এলাকার মানিক মিয়াসহ নদী পারের একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া হলেও পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রভাবশালীরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুশিয়ারায় অত্যাচার চালিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে দিনমুজুর লোকজনকে ধরে নিয়ে যান এবং জেল জরিমানা করেন। কিন্তু যাদের মদদে বালু উত্তোলন হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছেন।
পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পারের বাসিন্দারা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। প্রতি বছরই মৌলভীবাজার এলাকার কিছু লোকজন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেয়া জরুরী।
বালু উত্তোলনকারী আশরাফ উদ্দিন আহমদ বলেন, শেরপুর ইকোনোমিক জুন অঞ্চলের নির্মাণ কাজের জন্য আমরা বালু তুলে তাদের কাছে বিক্রি করছি। ইকোনমিক জোনে বালু দেয়ার বিষয়ে আমাদের বৈধ কাগজপত্র আছে। এলাকার কিছু মানুষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান বলেন, এ ধরণের অভিযোগ আমাদের কাছেও আসছে। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমূস সাকিব বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর এ অংশে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। সম্প্রতি ঐয়া এলাকায় বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। আবার যদি ওরা বালু উত্তোলন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।