২২ ডিসেম্বর ২০২৩


সিলেটে খনন করা হবে ‘নতুন ২টি গ্যাস কূপ’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরবরাহ বাড়াতে সিলেটে দুটি নতুন গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ড্রিলিং অব সিলেট-১১ (উন্নয়ন কূপ) এবং রশিদপুর-১৩ (অন্বেষণ কূপ) শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে যার আনুমানিক ব্যয় ৫৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সিলেট-১১ এবং রশিদপুর-১৩- যথাক্রমে ২,০০০ মিটার এবং ৪,২০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। কূপগুলি থেকে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ শুরু করার প্রস্তাবিত সময়সীমা হল ১ মার্চ ২০২৬।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, অনুমোদন পেলে, বাংলাদেশ অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড মিনারেল করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) অধীনে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস উৎপাদন করে দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা আংশিকভাবে পূরণ করা। প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পরে, প্রথম পাঁচ বছরে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতিদিন ১৬ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস উৎপাদন করবে। নতুন কূপ দুটি দেশের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, দেশে চলমান গ্যাস সংকট মোকাবেলায় সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের অংশ হিসেবে সিলেট-১১ উন্নয়ন কূপ ও রশিদপুর-১১ অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত হবে। অনুমোদনের পর, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে ভৌত কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে সিলেট-১১ থেকে দৈনিক ১০ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস পাওয়া যাবে, যেখানে রশিদপুর-১১ থেকে প্রতিদিন ১৫ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন কূপের সম্মিলিত আউটপুট, গ্যাস ক্ষেত্রের অন্যান্য তিনটি কূপের সাথে, জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৭৫ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস সরবরাহ করার সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি যোগ করেন।

তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে অন্তত ৮-১০টি প্রকল্পের কাজ চলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিএফসিএল), মার্কিন কোম্পানি শেভরন ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এসব কূপ খনন সংস্কার ও ওয়ার্কওভারের কাজ করছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে পেট্রোবাংলা ৪৬টি কূপ খনন পরিকল্পনা করেছে। সংস্থাটির লক্ষ্য হলো এসব কূপের মাধ্যমে ২০২৫ সাল নাগাদ জাতীয় গ্রিডে ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত করা। এ লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে এবং সেখান থেকে ভালো ফল পাওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করছে পেট্রোবাংলা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে প্রথম গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর আবিষ্কার হতে থাকে একের পর এক গ্যাসক্ষেত্র। বর্তমানে এসজিএফএলের আওতায় পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। এগুলো হলো-হরিপুর গ্যাসফিল্ড, রশিদপুর গ্যাসফিল্ড, ছাতক গ্যাসফিল্ড, কৈলাসটিলা গ্যাসফিল্ড ও বিয়ানীবাজার গ্যাসফিল্ড।

শেয়ার করুন