১৫ জুন ২০১৯
জেলা প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার : চম্পা লাল। বয়স ৭৫ এর গণ্ডি পা হয়েছে। চা বাগানে কাজ করতেন একসময়। বয়সের ভারে এখন আর বাগানে কাজ করতে পারেন না। কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাকে শেষ বয়সেও তাড়া করছে। তাই এবার রাস্তায় বসেছেন মৌসুমি ফল নিয়ে।
এমন করে মৌলভীবাজারে রাজনগর উপজেলার মাতিউরা চা বাগানের অনেকে শ্রমিক আগের পরিচয় ছাপিয়ে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। বছরে ছয় মাস বাগানে কাজ করেন আর বাকী ছয় মাস বিভিন্ন ফল বিক্রি করে জীবন নির্বাহ করেন তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাগানের মধ্য দিয়ে অবস্থিত কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়কে দু’পাশে বিভিন্ন জায়গায় মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, ও শাক-সবজি পসরা সাজিয়ে রাস্তার ধারে তা বিক্রি করছে তারা। যাত্রাপথে গাড়ি থামিয়ে এসব পণ্য ক্রয় করছেন যাত্রীরা।
জানা যায়, এসব চা শ্রমিকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন ধরনের ফল সংগ্রহ করে তা রাস্তার পাশে বসে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বিকিকিনি। বিকেলে আবার গ্রামে গ্রামে ফল খুঁজতে বের হয়ে পড়েন তারা।
চা শ্রমিক চম্পা লাল বলেন, একটি কাঁঠাল বিক্রি করে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ হয়। প্রতিদিন তিনি ২০ থেকে ৩০ পিস কাঁঠাল বিক্রি করতে পারেন। এতে যা আয় হয় বাগানে তিনদিন কাজ করে সে পরিমাণ টাকা পাওয়া যায় না বলেই তিনি এ ব্যবসায় নেমেছেন।
মাতিউরা বাগানের পুলিশ চেকপোস্টের পাশেই ফল সাজিয়ে বসেছেন বিজয় নুনিয়া।
তিনি বলেন, বছরে ছয় মাস আমরা আম-কাঁঠাল বিক্রি করি। এসময় চা বাগানে কাজ কারি না। চার বছর থেকে এ ব্যবসায় করছি। ভালোই লাভ হয়। ফলের মৌসুমি চলে গেলে আবার চা বাগানের কাজে লেগে যাই।
মাহবুব হাসান মুক্তা নামে একজন ক্রেতা বলেন, এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফল কিনতে ভরসা পাওয়া যায়। কারণ বর্তমান বাজারে ফরমালিনের প্রভাবে মানুষ আতঙ্কিত। তারা এসব ফল গ্রাম থেকে সংগ্রহ করে থাকেন, যাতে কোনো ফরমালিন থাকে না।