১৬ মার্চ ২০১৯


মশার ‘যন্ত্রনায়’ অতিষ্ঠ সিলেটবাসী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট : সিলেট নগরে গত কয়েকদিন থেকে মশার উপদ্রব বেড়েছে। এতে অতিষ্ঠ হয়েছে উঠছে নাগরিক জীবন। দিন-রাতে সমানতালে বাড়ছে মশার উপদ্রব। এতে ডেঙ্গ ও চিকুনগুনিয়ার মত রোগের আতঙ্কে রয়েছেন নগরবাসী।

নগরবাসীর অভিযোগ- সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সময় সময়ে মশা নিধক ওষুধ স্প্রে করেই শেষ। মশার উপদ্রব কমাতে স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেই।

সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অপরিকল্পিত নগরায়নেই মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে মশার উপদ্রব কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নগরে মশার ওষুধ চলতি মাসেই কিংবা আগামী মাসের শুরুতেই ছিটানো হবে। এজন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার লিটার ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

সিসিক সূত্র জানায়, ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার খামারবাড়ি পাঠানো হচ্ছে। তার রিপোর্টও এসেছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ওষুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চলতি সপ্তাহে ওষুধ বুঝিয়ে দেবে। তারপরই নগরে একযুগে ওষুধ ছিটানো হবে।

সিটি করপোরেশনের কাছে নগরবাসীর দাবি, অতি দ্রুত মশা নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা এবং ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা।

এদিকে, নগরে মশার উপদ্রবে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।সন্ধ্যার আগেই বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করেও এর কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্রব বেড়েছে।

নগরের আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা ছমির মিয়া বলেন, ‘ মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দিনের বেলা চায়ের দোকান কিংবা খোলা জায়গাও মশায় কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টানিয়ে মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। দিনে বাচ্চাদের মশারি টানিয়ে ঘুম পাড়াতে হচ্ছে। আবার মশারির ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া মশা মারতে গিয়ে রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে।’

সিলেট ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষর্থী শামীমাবাদ এলাকার বাসিন্দা অসীম কুমার দাশ বলেন, ‘বিকেল থেকেই মশার উপদ্রব শুরু হয়। মশার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন মাঠের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে এলাকার শিশুরা।’ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিটি করপোরেশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মশার চরম অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। কোথাও এক মিনিটও নিরাপদে বসা যাচ্ছে না’।কথাগুলো বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নগরের সুবিদবাজর এলাকার বাসিন্দা প্রিয়া আচার্য্য।

তিনি বলেন, ‘মশার উৎপাত এতটাই বেশি যে, দরজা-জানালা খুলে রাখার উপায় নেই। মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের তৎপরতায় খুশি নন তিনি।

তার অভিযোগ, মশা যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে সিটি করপোরেশনের কোনো তৎপরতা নেই।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মাসের শেষের দিকে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। তবে কোনো কারণে কয়েকদিন দেরি হলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে একসঙ্গে মশার ওষুধ ছিটানো হবে। আগেরবার প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০ জন কর্মী নিয়ে দুই দিনের মধ্যে মশার ওষুধ ছিটানো শেষ করেছিলাম। তবে এবার আমরা আরো দীর্ঘস্থায়ী অর্থাৎ ৭ দিনব্যাপী প্রতিটি ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানোর পরিকল্পনা আছে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

শেয়ার করুন