৭ জানুয়ারি ২০১৯


হারলেন শেখ হাসিনা, জিতলেন দুই চৌধুরী

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলের ১৯টি আসনের মধ্যে সিলেট-২ আসনে ইয়াহইয়া চৌধুরী ও সুনামগঞ্জ ৪ আসনে পীর মিসবাহকে মহাজোটের শরিক হিসেবে ছাড় দেয় ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে পীর মিসবাহকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মেনে নিলেও সিলেট-২ আসনে ইয়াহইয়া চৌধুরীকে মেনে নেননি আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী।

দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মহাজোট প্রার্থীর বিপক্ষে দুই চৌধুরীর অবস্থানের কারনে অবশেষে আসনটি হাতছাড়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীসহ বেশ কয়েক জন। তবে সর্বশেষ মহাজোট থেকে আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হয়। আর বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি মনোনয়ন বঞ্চিত এই দুই চৌধুরী।

এমনটি জোটের মনোনয়ন চুড়ান্ত হওয়ার পর নিজেদের অনুগত নেতাকর্মীদের সিলেট মনোনয়নের দাবীতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করান তারা। এবং নিজেদের মধ্য থেকে প্রার্থী দিতে দলীয় প্রধানের প্রতি জোর দাবী জানান। কিন্ত শেষ পর্যন্ত নিজের অবস।তানে অটুট থাকেন মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন- দলীয় সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে শফিকুর রহমান চৌধুরী নিজ অনুগত এনামুল হক সরদারকে (সিংহ) সতন্ত্র প্রার্থী এবং আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নিজ গ্রুপরে নেতা মুহিবুর রহমানকে (ডাব) সতন্ত্র প্রার্থী করেন। উভয় বলয়ের নেতাকর্মীরা জোটের প্রার্থী বিপক্ষে প্রকাশ্যে দুই সতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের এই দুই মনোনয়ন প্রত্যাশীকে একটি বারের জন্যও মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে প্রচানায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। ফলে আসনটি চলে গেছে নামসর্বস্ত্র দল গণফোরামের দখলে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইয়াহইয়া চৌধুরীকে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন- এবার আপনারা লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিন, আগামীতে সব লাঙ্গল নৌকায় তুলে নেব। প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও মন গলেনি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত এই দুই চৌধুরীর। তারা প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে সক্রিয় রাখেন তাদের দুই সতন্ত্র প্রার্থীকে। এমনকি জোটের প্রার্থীর পক্ষে এই দুই নেতা বা তাদের অনুগত কোন নেতার্কীকেই মাঠে সক্রিয় দেখা যায়নি।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষনে দেখা যায়, আসনটিতে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত গনফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান (উদিয়মান সূর্য) ৬৯৪২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে মহাজোট মনোনীয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১৮০৩১, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলয়ের সতন্ত্র প্রার্থী মুহিবুর রহমান (ডাব) পেয়েছেন ৩০৪৪৯ এবং শফিকুর রহমান চৌধুরী বলয়ের সতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক সরদার পেয়েছেন ২০৭৪৫ ভোট।

এমন পরিস্থিতিতে যদি আসনটিতে আওয়ামী লীগের এই দুই বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে না থাকতেন তাহলে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা বিজয়ী হতে পারতেন মহাজোট প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানান, প্রচারণায় অংশ নেয়ার জন্য বার বার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগীতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। বরং তারা নিজেদের বলয়ের সতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে ব্যস্থ ছিলেন।

দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন- এই আসনটিতে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থী হারার পছেনে মুল ভূমিকায় ছিলেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত এই দুই চৌধুরী। কার্যত মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে হারাতেই আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহীকে নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছিল। আর শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়েই জিত হয়েছে শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর।

বিষয়টি নিয়ে জানতে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইলে কল দেয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।



শেয়ার করুন