২২ ডিসেম্বর ২০১৮


উন্নয়নের ছোঁয়া সিলেট এসে পৌঁছেছে : প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

হাবিব সাদি ও লোকমান হাফিজ, আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়নের ছোঁয়া সিলেট বিভাগে এসে পৌঁছেছে। সিলেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি। শ্রীহট্ট একটি ঐতিহাসিক নাম। এই নামে অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। সিলেট বিভাগের সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। হাওর-বাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার প্যানেল করে দিয়েছি যাতে মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে যায়।

শনিবার বিকেলে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যডভোকেট লুৎফুর রহমান।

তিনি বলেছেন, আগে চায়ের নিলাম শুধুমাত্র চট্টগ্রামে হতো। আমরা সেই নিলাম সিলেটে যাতে হয়, তার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। চা শ্রমিকরা সবসময় নৌকায় ভোট দেয়। তাদেরকে ধন্যবাদ। তাদের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ করেছি। চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য স্কুলের ব্যবস্থা করেছি, চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। মা বোনেরা এখন বাড়ির পাশে চিকিৎসা নিতে পারেন।

মহাজোট নেত্রী বলেন বলেন, জানুয়ারিতে সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছিলাম। আবারও আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। বিজয়ের মাসে আপনাদের সামনে এসেছি। আগামী নির্বাচনে আমরা যে প্রার্থী দিয়েছি, তাদের জন্য নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে জনগণের কল্যাণ হয়, দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না, প্রত্যেক ঘরে আলো জ্বালবে। এই কল্যাণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারও নৌকা মার্কাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে, তখনই দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের কল্যাণ হয়। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই জনগণের অধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। উন্নয়নের জোয়ার সিলেটে এসেছে। আমরা সিলেট বিভাগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। আমরা ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পেরেছি। আজ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। প্রবাসী যারা আছেন, তারাও বিনিয়োগ করতে পারবেন। সকলের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছি, যেখানে কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, দারিদ্রের হার কমে। আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬ ভাগে উন্নীত করেছি। আমরা সকলের জন্য বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। দুই কোটি চার লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিচ্ছি। মায়ের মোবাইল ফোনে উপবৃত্তির টাকা দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১৯৯৬ সালে মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেই। সারাদেশে ইন্টারনেট চালু করেছি। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি। মোবাইল ফোন এখন সবার হাতে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সবাই এখন বিশ্বকে দেখতে পারে, আত্মীয়স্বজনকে দেখতে পারে। মোবাইল ফোনে আমরা টু জি থেকে থ্রিজি, থ্রিজি থেকে ফোরজিতে চলে এসেছি। আগামীতে আমরা ফাইভ জি চালু করবো।

‘নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নুহ নবীর আমলে মহাপ্লাবন থেকে মানুষ জাতিকে রক্ষা করেছিল নৌকা। নৌকা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিয়েছি। নৌকা দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বিশ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে আমরা আলো জ্বালবো, কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না। এই নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশ একসময় নেতিবাচক পরিচিতি পেয়েছিল। এখন বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন। বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল। আমি চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। আমি দুর্নীতি করতে আসিনি। আমি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে এসেছি, নিজের ভাগ্য গড়তে আসিনি। যে অভিযোগ ওঠেছিল, তা বানোয়াট ছিল প্রমাণ হয়ে গেছে। চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করবো। আল্লাহর রহমতে তা আমরা করছি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগদান করায় তাকে স্বাগত জানান শেখ হাসিনা। লন্ডনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে বলেও মন্তব্য করে তিনি।

জনসভায় সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মহাজোটের সকল প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন শেখ হাসিনা।

সভায় বক্তব্য রাখেন- সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী হাফিজ আহমেদ মজুমদার, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী এমপি ইমরান আহমদ, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া, সিলেট-১ আসনের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান এমপি,বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফজিলাতুন্নেছা, সুনামগঞ্জ জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির, বাংলাদেশ আ’লীগ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ আ’লীগের স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আবু কাওসার, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, মহানগর যুব মহিলালীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

শেয়ার করুন