২৫ জুন ২০২১


সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেই সিলেট ‘শাটডাউন’

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। বর্তমানে সিলেটের একমাত্র কোভিড ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল প্রায় পূর্ণ রোগীতে। অথচ এই কয়দিন আগেও হাসপাতালের অর্ধেকের বেশি সিট ছিল খালি।

গেল এক সপ্তাহে সিলেটে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় আক্রান্ত শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ শতাংশে। একদিকে আক্রান্ত শনাক্তের হার বৃদ্ধি, অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় শিগগিরই সিলেটে লকডাউন বা শাটডাউন ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগে বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন। মারা যাওয়া চারজনই সিলেট জেলার বাসিন্দা। একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ১২৫ জন। গেল কয়েকদিন ধরে আক্রান্ত শতকের নিচে নামছেই না।

সূত্র জানায়, গেল এক সপ্তাহে সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৬০৬ জন। এর আগের সপ্তাহে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৫১১ জন।

সিলেটে বর্তমানে ঘরে ঘরে সর্দি, জ্বর ও কাশির মতো করোনার উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকেই নমুনা পরীক্ষা করা থেকে বিরত থাকছেন। ফার্মেসি থেকে ঔষধ নিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। নমুনা পরীক্ষা বাড়লে শনাক্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, কোভিড ডেডিকেটেড এক শ’ শয্যার শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এক সপ্তাহ আগেও গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকতেন ৪০-৪৫ জন। এখন ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫-৯০ জনে। সংক্রমণ না কমলে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগী জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না। তখন রোগীদের খাদিমপাড়া ও দক্ষিণ সুরমা আইসোলেশন সেন্টারে পাঠাতে হবে বলে।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, গেল এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষায় করোনা সনাক্তের হার দ্বিগুণ বেড়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আক্রান্ত শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও মৃত্যু এভাবে বাড়তে থাকলে সিলেটকে লকডাউন বা শাটডাউনের আওতায় আনার কোনো বিকল্প থাকবে না।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ বেপরোয়া চলাফেরা করছে। অর্ধেক মানুষও সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দিন দিন সিলেটের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরিভাবে মানা ছাড়া অবস্থার উন্নতি ঘটানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

শেয়ার করুন