২৪ আগস্ট ২০১৭
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে বিয়ানীবাজারের বিকল্প সড়ক যোগাযোগ বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫শত মিটার অংশ চিন্তিত করেছে করেছে বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশল অফিস। ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়কের বিয়ানীবাজার অংশে সংস্কার করতে ব্যয় হবে ৬০ লাখ টাকা। উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে সংস্কার ব্যয়ের প্রাক্কলন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সিলেটের সাথে যোগাযোগের বিকল্প সড়কটি দুই দফা বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় এবং অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে যান চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ভোগের পড়েছেন এ সড়ক ব্যবহারকারী চার উপজেলার অধিবাসীরা। সড়কের বেশ কিছু অংশ এবারের বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া অতিবৃষ্টি ও ভারি বর্ষণে এ সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়কের তিলপাড়া অংশে গর্তে আটকা পড়ে গণপরিবহণসহ মাল বোঝাই ট্রাক। সড়কের মধ্যখানে গর্তে পড়ে এমসয় ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে। দুদিন পূর্বে একই জায়গায় আরেকটি মাল বোঝাই ট্রাক আটকা পড়লে ১৭ ঘন্টা পর গ্রামবাসীর সহযোগিতায় সরানো হয়। এ সড়কের মাটিজুরা ত্রিমোহনী, তিলপাড়া মসজিদ ও নালবহর বাজার সংলগ্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কের তিলপাড়া অংশে এখনো সড়কের উপর পানি রয়েছে।
তিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়কের বেশ কিছু অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে গাড়ি পড়লে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা নষ্ট হওয়া গাড়ি গর্ত থেকে তুলে দিতে সহযোগিতা করি।
তিনি বলেন, একমাস হতে চলল, এখনো সড়কে কাজ শুরু করা হচ্ছে না।
বেজগ্রামের হোসেন আহমদ বলেন, এলাকাবাসী গর্তে মাটি ও ইট দিয়ে ভরাট করেছিলেন। এতে গত দুদিন যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। বারি বর্ষণে মাটি সরে গেলে আবার গর্ত হয়ে পড়ে। এতে গাড়ি আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক সংষ্কার করে এলাকাবাসীকে বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দেয়ার অনুরোধ জানান।
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তিলপাড়া গ্রামের অধিবাসী আসিফ আহমদ ইমন বলেন, গর্তে পড়ে গাড়ি বিকল হলে সবাই সহযোগিতা করতো। এভাবে প্রতিদিন গর্তে আটকে পড়া গাড়ি তুলে দিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছি। এখন আর গাড়ি গর্তে আটকা পড়লে সহযোগিতা করার মতো শক্তি পাই না।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ৫শত মিটার অংশে সংস্কার এবং বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়া সড়কের আরও ৪ কিলোমিটার মেরামত করা হবে। বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত অংশের প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করে দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত অপর ৪ কিলোমিটারের ক্ষতি নিরূপণ ও ব্যয় নির্ধারণের কাজ চলছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী বলেন, সড়কের সংস্কার কাজ জরুরি ভিত্তিতে শুরু করা হবে। আমরা এরই মধ্যে সড়কের সংষ্কার ব্যয়ের প্রাক্কলন দপ্তরে পাঠিয়েছি। এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা। তিনি বলেন, দপ্তরের অনুমোদনসহ সব কিছু মিলিয়ে সংষ্কার কাজ শুরু করতে এখনো মাস খানেক লাগবে।
(আজকের সিলেট/২৪ আগষ্ট/ডি/এসটি/ঘ.)