১৮ আগস্ট ২০১৮
ডেস্ক রিপোর্ট : শহরতলীর লাক্কাতুরা চা-বাগানের ফাঁড়ি দলদলি চা-বাগানে অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদে অভিযানে নেমেছে সিলেট উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনীরার নেতৃত্বে এ অভিযান চলছে।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাট সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এ সময় অবৈধ হাট কর্তৃপক্ষের লোকেরা হাট বহাল রাখতে নানা তৎপরতা চালায়।
বিকাল ৪টা পর্যন্ত হাট সরাতে কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ৪টার পর থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ট্রাকে করে গরু-ছাগল অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বিকাল সাড়ে ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযান চলছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনীরা বলেন, সদর উপজেলা থেকে ৫টি হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ অবৈধ হাট বসাতে পারবে না। কয়েকটি হাটের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে একটি হাট উচ্ছেদ করছি।
অনেকটা রাতারাতি শুক্রবার হাটটি বসে। সরকারি চা-বাগানে পশুর হাটের ইজারা দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম বলে জানান বাগানসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি। বাগানের মধ্যে খোড়াখোড়ি ও পশুর ট্রাকের আসা-যাওয়ায় পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা।
গরুর কারবারিদের হাটে জায়গা করে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিদিন দুই লাখ টাকা করে শুক্রবার-মঙ্গলবার পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা চুক্তিতে এই হাট বসানো হয়েছে।
লাক্কাতুরা চা-বাগানের ফাঁড়ি চা-বাগান হওয়ায় দলদলি চা-বাগান পরিচালিত হয় ন্যাশনাল টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনায়।
দলদলি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আশরাফ বলেন, আমরা এই হাট ইজারা দেইনি। তিনি লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আশরাফুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা ইজারা দেইনি, ইজারা কর্তৃপক্ষ দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ কারা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাগান যেহেতু সরকারি, কর্তৃপক্ষও সরকার।
এ ব্যাপারে ন্যাশনাল টি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, ইজারার বিষয়ে বাগানের ব্যবস্থাপক আমাকে বলেছিলেন। আমি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলতে বলেছি। ইজারা দিলে ওনারা দিবেন।
(আজকের সিলেট/১৮ আগস্ট/ডি/কেআর/ঘ.)