২১ এপ্রিল ২০১৮


নারীদের অনুপ্রেরণা দোয়ারাবাজারের ইউএনও মমতাজ

শেয়ার করুন

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : যেখানে অনেকেই মনে করেন উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা নারীদের স্বপ্ন মানেই শিক্ষক, সেবিকা কিংবা ডাক্তার হওয়া! আবার বেশিরভাগ নারীর স্বপ্নও শিক্ষক, সেবিকা কিংবা ডাক্তারির গন্ডির মধ্যেই আবদ্ধ তাদের জন্য উদাহরণ হতে পারেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ। তিনি নিজের যোগ্যতায় আমাদের পশ্চাদপৎ নারীদের দেখিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্জন করে শুধু শিক্ষকতা, নার্স কিংবা ডাক্তারি করা যায়না বরং যোগ্যতাবলে নারীরা প্রশাসনও চালাতে পারে। দোয়ারাবাজার উপজেলার মতো পশ্চাদপৎ উপজেলার নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ।

গত ১৭ নভেম্বর ২০১৮ইং তারিখে কর্মস্থল দোয়ারাবাজার উপজেলায় আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করেন তিনি। এরই মধ্যে নিজের কর্মদক্ষতা ও কর্তব্য নিষ্ঠায় উপজেলার সাধারণ মানুষসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সর্বত্র সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রতিনিয়তই উনার কর্মকান্ড সাধারণ মানুষসহ সচেতন মানুষদের নজর কাড়ছে। তিনি উপজেলার নানাবিধ সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। যেকোনো কাজে ছুটে যাচ্ছেন উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে। প্রত্যন্ত এলাকায়, গ্রাম গ্রামান্তে।

মিশছেন সাধারণ মানুষদের সাথে শুনছেন তাদের সমস্যার কথা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোথায় নেই তিনি? হাওরের ফসল রক্ষা বাধ নির্মাণ কাজ থেকে শুরু করে স্কুল কলেজসহ উপজেলার সকল আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সর্বত্রই উনার বিচরণ। উপজেলার অসৎ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিকট অনেকটা ভীতির নাম কাজী মহুয়া মমতাজ। সাংসারিক একজন নারী হয়েও নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি সচেতন তিনি। অনেকটা হুট করেই চলে আসেন স্কুল পরিদর্শনে, ফসল রক্ষা বাধের নির্মাণ কাজ সরজমিনে প্রত্যক্ষ করতে কিংবা সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম দেখতে। যা দেখে অসাধু পরায়ন সরকারি কর্মকর্তা /কর্মচারীরা অনেক অপ্রস্তুত হয়ে পরেন বটে। উনার একাধিক সহকর্মীরা জানান, মেডাম দায়িত্বের প্রতি খুবই সচেতন। উনাকে কোনো সময় দায়িত্ব অবহেলা করতে দেখিনি।

নির্বিঘ্নে দক্ষতার সাথে প্রশাসনিক কাজ করে যাচ্ছেন। একাধিক সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা নির্বিঘ্নে যেকোনো বিষয়ে মেডামকে কাছে পাই। যেকোনো সমস্যায় উনার অফিসে আমরা সরাসরি দেখা করতে পারি। খুব ভালো মানুষ তিনি।

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মাস্টার জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করার পর থেকে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রায় সময়ই উপজেলার দূর দূরান্তের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো পরিদর্শনে আসেন তিনি। প্রশাসনিক সব ধরনের কাজে উনার সরব উপস্থিতি লক্ষ্যনীয়।

স্থানীয় প্রবীণ গণমাধ্যম কর্মী তাজুল ইসলাম জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ারটিকে অলংকৃত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ। যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তিনি দোয়ারাবাজারে আরো বেশিদিন সময় দিতে পারলে অবহেলিত দোয়ারাবাজার উপজেলাকে একটা সম্মানজনক পর্যায়ে দাঁড় করাতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম বীর প্রতীক জানান, শুধু প্রসংশাই নয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ পুরষ্কারের দাবিদার। একজন নারী হিসেবে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে দক্ষতার সাথে প্রশাসন পরিচালনা করা যায়।

(আজকের সিলেট/২১ এপ্রিল/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন