৫ ডিসেম্বর ২০২৩


সুনামগঞ্জে থানা হেফাজতে বাসে আগুন : বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফাইল ছবি

শেয়ার করুন

ছাতক সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জে একমাস পূর্বে থানায় জব্দ করা একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর জেলার ছাতক থানায় এ মামলা হয়।গত ৩০ নভেম্বর গভীর রাতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের জয়কলস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিসহ ১১ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।

শনিবার (২ডিসেম্বর) রাতে জয় কলস হাইওয়ে থানার এস আই মোঃ ইউনুস আলী বাদী হয়ে ছাতক থানায় এ মামলা দায়ের করেন। যা’ ছাতক থানার মামলা নং-০১(১২)২৩।

মামলার আসামিরা হলেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় সদস্য, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী,দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, বুরাইয়া-চিচরাওলী গ্রামের নুরুল আলম, ইউপি সদস্য ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের শিব নগর-সিংগুয়া – শেখপুর গ্রামের দিদার আলম,গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, দোলারবাজার ইউনিয়নের খাইরগাঁও গ্রামের সফিক মিয়া, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের চেচান গ্রামের কামাল আহমদ তালুকদার, আতিক মিয়া,ভুইগাঁও গ্রামের মুহিবুর রহমান মুহিব,অলিউর রহমান,শেওলা পাড়া গ্রামের ইমান আলী ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের নতুন জিয়াপুর গ্রামের ওলিউর রহমান আলেক।

মামলার বাদী জয় কলস হাইওয়ে থানার এস আই মোঃ ইউনুস আলী জানান,ম চলমান অবরোধের সমর্থনে, সরকার পতনের লক্ষে ষড়যন্ত্র, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ নষ্ট ও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে ধারণ বাজার এলাকায় দাঁড়ানো (ঢাকা মেট্রো-জ- ১১-১৮৬২) বাস গড়িটি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পুড়ে যাওয়া গাড়ির মালিক অজয় চৌধুরী জানান, গত ২৮অক্টোবর সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কের ছাতক উপজেলার কৈতক নামকস্থানে তাঁর বাসটি বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে একজন পথচারী মারা যান। পুলিশ পরে তার গাড়িটি জব্দ করে। পুলিশ এ ঘটনায় জব্দনামাসহ আদালতে একটি মামলাও দেয়। এরপর তিনি পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে মারা যাওয়ার ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিষয়টি আপোসে নিস্পত্তি করতে বিলম্ব হওয়ায় আদালত থেকে তিনি আর গাড়িটি নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি। গত ১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফোনে জানানো হয় ফাঁড়ির হেফাজতে থাকা তাঁর গাড়িটি আগুনে পুড়ে গেছে। এরপর তিনি তাঁর লোকজনকে সেখানে পাঠান।

অজয় চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ হেফাজতে থাকা গাড়িটি কিভাবে পুড়ল। পুলিশ জব্দনামায় গাড়ির মূল্য লেখা হয় ১২ লাখ টাকা। গাড়ি পুড়ে যে অবস্থা হয়েছে সেটি সংস্কার করতে এখন তার পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা লাগবে। তিনি বলেন,‘আমি আমার গাড়ি যেভাবে ছিল সেভাবে ফেরত চাই।’

এব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মহিব উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘ফাঁড়িতে থাকা গাড়িতে আগুন লাগল কিভাবে। দুটি গাড়ি পাশাপাশি ছিল। এখানে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে। পুলিশ যেভাবে গাড়ি জব্দ করেছে, আমরা সেই অবস্থায় গাড়ি চাই।’

জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কবির জানান, তাঁদের ফাঁড়িতে গাড়ি রাখার জায়গা কম। এই গাড়ি জব্দ করার পর মালিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে, তিনি আসেননি। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড় টার দিকে গাড়িতে দুস্কৃতিকারীরা আগুন দেয়। এ ঘটনায় ছাতক থানায় পুলিশ একটি মামলা করে। গাড়িতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

 

শেয়ার করুন