১৬ এপ্রিল ২০১৮
কুলাউড়া (মৌলভীভাজার) প্রতিনিধি : হাকালুকি হাওরে এ বছর প্রথম কম্বাইন্ড হারভেস্টার (ধান কাটা ও মাড়াই) মেশিনে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। হাওর জুড়ে শুরু হয়েছে উৎসব। ভোর হবার পর থেকে হাতে কাটার পাশাপাশি মেশিনে ধান কাটা দেখে তাদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তারপরও তাদের মনে চরম আতংক বিরাজ করছে। আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা দেখলে তারা ভয়ে কেঁপে উঠে। বোরো চাষিদের মনে করিয়ে দেয় পর পর দুইবার অকাল বন্যায় ফসল হারানোর কথা।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরো ১৫দিন সময় পেলে তারা পরিশ্রমের ফসল গোলায় তুলতে পারবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জগলুল হায়দার চৌধুরী জানান, এই বছর হাকালুকি হাওরে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫শ হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে শতকরা ৩০ভাগ ধান পেকে গেছে, ১৫ভাগ ধান কৃষকের গোলায় উঠেছে। বোরো ব্রি-২৯ধান পাকতে সময় নেয় ১৬০ থেকে ১৭০দিন। পক্ষান্তরে ব্রি-২৮ পাকতে সময় লাগে ১৪০ থেকে ১৫০দিন।
জানা গেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা ভেবে এই বছর হাকালুকি হাওরের অধিকাংশ বোরো চাষি ব্রি ২৮ ধান লাগিয়েছে। ধানের ফলন ভালো হলেও ধানে চিটার পরিমাণ বেশি।
বোরো চাষি কলামিয়া, জিহাদি, হাবিবুর রহমান ও বোরো খামারি হিকেন্দ্র পাল জানান, এই বছর ধানে চিটার পরিমাণ প্রায় ৩০ভাগ। দ্রুত বোরো ধান গোলায় উঠানোর জন্য অনেক চাষিরা যান্ত্রিক ছাড়াও সনাতনি পদ্ধতিতে গরু দিয়েও মাড়াই করছেন।
কৃষি অফিসার আরো জানান, দিন রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে এই বছর বেশ কিছু জমির ধান কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে চাষিরা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাকালুকি হাওরের বোরো ধান দ্রুত কাটার এবং মাড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে এই বছর কৃষি বিভাগ থেকে ৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন হাকালুকি হাওরের চাষিদেরকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে । প্রতিটি মেশিনের দাম সাড়ে সাত লাখ টাকা হলেও সরকার ভুর্তকি দিচ্ছে ৫ লাখ টাকা। আধুনিক পদ্ধতির মেশিন বরাদ্দ পাওয়ায় বোরো চাষিরা উৎসাহ বোধ করছেন।
(আজকের সিলেট/১৬ এপ্রিল/ডি/কেআর/ঘ.)