২৬ জানুয়ারি ২০২২


হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস আহরন

শেয়ার করুন

মোঃ মিজানুর রহমান, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে : শীতকালের গ্রাম বাংলার খেজুর রসের জাও, খেজুরের গুড়,খালি রস খাওয়া ছিল চুনারুঘাটের মানুষের বহু বছরের ঐতিহ্য। কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খেজুরের রসের দেখা। আবহমান গ্রাম-বাংলার গৌরব ও ঐতিহ্যের খেজুর গাছে কলসি বাঁধার রূপ দেখাই যাচ্ছে না অনেক গ্রামীন জনপদ গুলোত। দেখা যায় না আগের মতো খেজুর গাছিদের ছুটাছুটিও। গ্রাম-বাংলায় শীতকালীন পিঠাপুলির উৎসবে সবাই মেতে উঠে। আর এ উৎসবের আমেজ যেন জমে উঠছেনা খেজুরের রস ছাড়া।

খেজুরের কাঁচা রস যেমন সুস্বাদু, তেমনি রসের তৈরি পায়েস, গুড় সহ বিভিন্ন রকমের খাবারের স্বাদ অতুলনীয়। চুনারুঘাট উপজেলার গ্রামীণ জনপদে খোঁজ নিয়ে জানা যায়- অতীতে শীতের উৎসব শুরু হতো খেজুর গাছের রস দিয়ে। শীতের মৌসুম শুরু হতেই সারা বছর অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা খেজুর গাছের কদর বেড়ে যেতো। বাড়িতে বাড়িতে লেগেই থাকতো পিঠাপুলির উৎসব। পাঠানো হতো আত্মীয় স্বজনদের বাড়িও।

কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র এখন আর চোখে পড়ে না। এখন আর আগের মত খেজুরের রসও নেই, নেই সে পিঠে পায়েসও। দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছের সংখ্যা। নতুন গাছ রোপণের তেমন কোন উদ্যোগ ও চোখে পড়ে না। উপজেলার গুটিকয়েক গ্রামে সামান্য সংখ্যক গাছে খেজুরের রস লাগিয়েছেন গাছিরা। বেশি রস সংগ্রহ করতে না পারায় বিক্রি করেন না তারা।

সংগৃহীত রস তাদের পরিবারের চাহিদা মিটলেও অন্যরা নিতে পারে না খেজুরের রসের স্বাদ। আগের দিনে ঘুম থেকে ভোর বেলায় উঠেই কখন গাছ থেকে রস খুলবে সে অপেক্ষায় থাকতো গ্রামীন মহিলারা। এখন বাড়িঘর নির্মাণের জন্য পুরানো খেজুর গাছ গুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছের সমারোহ। আমতলা গ্রামের সরুজ আলী বলেন খেজুর রসের পায়েসের স্বাদই ছিল না। আমাদের নাতি-নাতনিরা তো এর নামই এক সময় ভূলে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্য দেশে ফেরত অনেকেই চিন্তা করছেন খেজুর বাগান করতে। তবে তাদের উদ্দেশ্য হলো খেজুর উত্তোলন করা রস উত্তোলন নয়। ইতি মধ্যে কয়েক জন দেশে ফেরত প্রবাসীর সাথে আলাপ করলে তারা একই কথা বলছেন। তারা আরব দেশের মতো খেজুর সংগ্রহের জন্যই তারা অত্যাধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে খেজুর বাগান করছে।

শেয়ার করুন