২৭ মার্চ ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সোনাগাঁয়ে সোনার বাড়ি’ নামে লোভনিয় শ্লোগান নিয়ে নগরীর উপকন্ঠে যাত্রা শুরু করে সোনারগাঁ আবাসিক প্রকল্প। শহরের পাশাপাশি হলেও প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর আজো আলোর মুখ দেখেনি। আর প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করে এখন দিসেহারা প্রায় শতাধিক পরিবার। তারা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নাল আবেদীনের কাছে প্লটের টাকা পরিশোধ করার পরও প্লট বুঝে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের পদপদবী নিয়েও অভ্যন্তরীন দ্বন্ধ রয়েছে। আর এজন্যই গ্রাহদেরকে প্লট বুঝিয়ে দিতে পারছেনা তারা। এনিয়ে দেন দরবার চলছে প্রতিনিয়ত।
সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল আজকের সিলেট ডটকম-এ গত ১৩ মার্চ ‘দল পরিবর্তন করছেন জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল!’ এবং ১৪ মার্চ ‘জয়নাল চেয়ারম্যানকে নিয়ে জৈন্তাপুরে তোলপাড়’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর জয়নাল আবেদীনের নিয়ন্ত্রনাধিন সোনারগাঁ আবাসিক প্রকল্পের ভুক্তভূগিরা আজকের সিলেট অফিসে যোগাযোগ করা শুরু করেন। তারা তাদের দুঃখ লাঞ্চনার কথা জানান।
জানা যায়, বিগত বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধিন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে এই প্রকল্পটি শুরু হয়। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বপালন করছেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন। তিনি এ দায়িত্বপাওয়ার পর প্রকল্পটিতে শুরু করেন স্বেচ্ছাচারিতা। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে নিজের এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেও নিজের ইচ্ছামতো চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন আর পরিবর্তন করেন। এমনকি নিজে ব্যবহার করার জন্য প্রকল্পের অর্থায়নে ক্রয় করেন তিনটি বিলাশ বহুল গাড়ি। আর এনিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এবং পরিচালকদের মধ্যে অসন্তোষ দৃষ্টি হয়।
আর সোনারগাঁ আবাসিক প্রকল্প শুরু করার পর জয়নালের সখ জাগে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার। কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জয়নাল তেমন পরিচিত ছিলেন না এলাকায়। সোনারগাঁ-এর টাকায় কেনা নতুন নতুন গাড়ি নিয়ে এলাকায় যাতায়াত শুরু করেন, শুরু করেন বিভিন্ন সমাজিক সংস্থাকে অনুদান দেয়া। কিন্তু তাঁর যে আর্থিক সচ্চলতা ছিলো তা দিয়ে এসব করা সম্ভব ছিলনা। সোনারগাঁ-এর সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীলদের দাবী সোনারগাঁতে বিনিয়োগকৃত গ্রাহকদের টাকা দিয়েই তিনি জমি না কিনে নির্বাচনে ব্যায় করেছেন। ফলে গ্রাহকদেরকে তাদের প্লট বুঝিয়ে দিতে পারেন নি।
সোনারগাঁ সূত্রে জানা যায়, নামমাত্র পানির নিচে জমি কিনে শুরু করা সোনারগাঁর বিশাল অফিস নেয়া হয় সোবহানীঘাটে। তৎক্ষালিন সময়ে নিয়োগ দেয়া হয় ৬৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বহাল তবিয়তে থাকলেও দিন দিন পরিবর্তন করা হয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।
সোনারগাঁ প্রকল্পটি মূলত কুচাই ইউনিয়নের গোটাটিকর, রুগনপুর, তৈয়ব সুলতান ও হবিনন্দি মৌজাধীন কুরি, ভারেরা মেদদী ও লোহাজুড়ি নামের ৪টি বিল ভরাট করে কার্যক্রম শুরু করে। আর এতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়। আর শুরু থেকেই এই পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ডের তীব্র বিরোধিতা করেন পরিবেশবাদীরা। এমনকি বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের স্মরনাপন্ন হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)।
২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আইন অনুযায়ী অনুমোদন নেয়ার আগে প্রকল্পের প্লট বিক্রিসহ সব ধরনের কার্যক্রম চালাতে নিষেধাজ্ঞা দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে বেলা সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (নং ১৫৫৫/২০১৫) করলে আদালত গত বছরের ৫ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দারের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের বেঞ্চ প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দেন।
প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পটিতে ঠিক কতটি প্লট রয়েছে অথবা কতজনকে প্লট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে তা এই মূহুর্তে মনে পড়ছেনা। আর বেলার দায়ের করা মামলাটি এখন চলমান আছে।
(আজকের সিলেট/২৭ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)
আরো পড়ুন…