১৪ জুলাই ২০২৩


ভ্রমন পিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে জাফলং মায়াবী ঝর্ণা

শেয়ার করুন

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে : কখনো সবুজ ঝোপের ভেতর দিয়ে, কখনোবা সারি সারি স্তরে সাজানো ছোট বড় পাথরের বুক চিরে নেমে আসা স্বচ্ছ জল রাশির তরঙ্গে জলপ্রপাত মায়াবী ঝরনার মায়াতে মাতোয়ারা ভ্রমণ পিপাসুরা। বৈরী আবহাওয়া টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল এমন প্রতিকূল অবস্থাও দমিয়ে রাখতে পারেনি পর্যটকদের। সব বাধা ডিঙ্গিয়ে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত জাফলং মায়াবী ঝর্ণা।

’মায়াবী ঝরনা’ ইতোমধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। অল্প দিনের ব্যাবধানে সকল পর্যটনস্পট গুলোকে ছাড়িয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে এই জলপ্রপাতটি।

জাফলংয়ের জিরো পয়েন্টে নুড়ি পাথর ও বালুকণার উপড় দিয়ে বহমান ভারত থেকে নেমে আসা পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলধারা আর ডাউকি নদীর উপর ঝুলন্ত ব্রিজের সৌন্দর্য দেখতে এমনিতেই পর্যটকদের প্রচারণায় মুখরিত। বিশেষ করে বর্ষাকালে পর্যটকদের জাফলং ভ্রমণ মানেই হচ্ছে ‘মায়াবী ঝরনা’র সৌন্দর্য উপভোগ করা। জিরো পয়েন্ট থেকে খানিকটা অদূরেই ’মায়াবী’ ঝরনার অবস্থান।

সরজমিনে দেখা যায়, মায়াবী ঝরনার স্বচ্ছ জলে গাঁ ভিজিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছেন পর্যটকরা। অনেকেই নিজের সাথে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে ছবি তুলে ক্যামারাবন্দি করে রাখছেন প্রিয় মুহূর্তটি। ওপারে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, পিয়াইনের স্বচ্ছ জল ও খাসিয়া পল্লি সব মিলিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্য। যা পৃথিবীর যে-কোনো মানুষ জাফলংয়ের এই সৌন্দর্যে বিমোহিত হবে। মায়াবী ঝরনা সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন নামে ভূষিত বিউটি কন্যা খ্যাত অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে অবস্থিত। জাফলং ভ্রমণের অনুভূতির বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত প্রমাণ পিপাসুরা বলেন, মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, পিয়াইনের স্বচ্ছ জল ও খাসিয়া পল্লি সব মিলিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্য। যা আমাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে। শুধু আমরা কেন, পৃথিবীর যে-কোনো মানুষ জাফলংয়ের এই সৌন্দর্যে বিমোহিত হবে। এমন সুন্দর একটা যায়গায় আসতে পেরে তারা নিজেকে ধন্য মনে করছেন। সুযোগ পেলে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বিশেষ করে মায়াবী ঝরনার মায়ার টানে আবারও আসবেন বলে জানান তারা। এদিকে ভ্রমনে আসা পর্যটকদের সতর্ক করতে পিয়াইন নদের কোনো অংশে নামলে বিপদ আছে কোথায় নামলে বিপদ নেই, সবই লেখা আছে স্টিক দিয়ে টাঙ্গানো ফেস্টুনে। পাশাপাশি ওসি রতন শেখ হ্যান্ড মাইক বাজিয়ে বারবার পর্যটকদের দিয়ে যাচ্ছেন সতর্কবাণী। একসময় জাফলংয়ে এসে সবুজে ঢাকা বিশাল বিশাল পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলরাশিতেই মুগ্ধ হতেন পর্যটক। ইদানীং মায়াবী ঝর্ণা নতুন করে জাফলংয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। অন্তত ৩০০ ফুটের মতো উঁচু এই পাহাড়ি ঝর্ণার পিচ্ছিল পাথর বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ওপরে ওঠেন। কয়েক ধাপে এই ঝর্ণার কিছু উপরে উঠে তারা সেলফি তোলেন, শীতল জলধারায় গা ভেজান। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে এসে এমন অনিয়ন্ত্রিত আচরণে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার শঙ্কার কথা জানালেন ওসি রতন শেখ।

টুরিস্ট পুলিশের ওসি রতন শেখের সাথে কথা বলে জানা যায়,মায়াবি ঝর্ণায় ভ্রমণের এখনি উপযুক্ত সময়।বিশেষ করে জুলাই ও সেপ্টেম্বর মাসে এই ঝর্ণায় অনেক পানি থাকে, তবে শীত আসার সাথে সাথে পানি কমতে শুরু করে। অর্থাৎ মায়াবী ঝর্ণা দেখতে যাবার ভাল সময় হল বর্ষাকাল ও পরবর্তী কয়েক মাস।জলপ্রপাত টি সংগ্রামপুঞ্জিতে অবস্থিত বলে সংগ্রামপুঞ্জি জলপ্রপাত নামেও বেশ পরিচিত।

শেয়ার করুন