২০ অক্টোবর ২০২২
আজকের সিলেট ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ করলেন লিজ ট্রাস। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এত কম সময়ের মধ্যে আর কোনো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের নজির নেই।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে উল্টো চাপে পড়েছিল ইউরোপসহ যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। বেড়ে যায় মূল্যস্ফীতি। এরই মাঝে ক্ষমতা ছাড়েন বরিস জনসন। এরপর দেড় আগে চরম অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণ করেছিলেন লিজ ট্রাস। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই মারা যান রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানির অন্তেষ্টিক্রিয়ায় খরচ করা হয় বিপুল পরিমাণে। এর ফলে দেশটিতে সংকট আরও তীব্র হয়। সম্প্রতি ট্যাক্স ইস্যুতে পদত্যাগ করেন দেশটির অর্থমন্ত্রী কাওয়াসি কোয়ারটেং। এরপর পদত্যাগ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সুয়েলা ব্রাভারম্যান। পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ট্রাসের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন ব্রাভারম্যান। তিনি ট্রাসের উদ্দেশে লেখেন, ‘এই সরকারের নির্দেশনা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। আমাদের ভোটারদেরকে প্রধান প্রধান যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আমরা শুধু তা ভঙ্গই করিনি বরং নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলিকে, যেমন সামগ্রিক অভিবাসন সংখ্যা হ্রাস করা, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা, বিশেষ করে ছোট ছোট নৌকায় করে বিপজ্জনক ভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আসা বন্ধা করার মত প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান রাখার বিষয়ে এই সরকারের স্বদিচ্ছা নিয়েও আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ ট্রাস সরকারের ভেতরের বিশৃঙ্খলারই যেন আরও নগ্ন প্রকাশ ঘটিয়েছে। বিশেষ করে যখন ডাউনিং স্ট্রিট মরিয়া হয়ে জনগণকে সরকারের ভেতর ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলে দেখাতে চাইছে সেরকম একটি সময়ে। এরপরই আজ পদত্যাগ করলেন লিজ ট্রাস।