১ জুলাই ২০২৩
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : পর্যটন অধ্যুষিত সবুজের সমারোহে পরিপূর্ণ চায়ের দেশ মৌলভীবাজার। এখানকার বহু দর্শনীয় স্থানসহ সব প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রে সারাবছরই ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটকরা। আর কোনো উৎসব বা দীর্ঘ ছুটিতে রীতিমত ঢল নামে পর্যটকদের। তবে এবার চায়ের দেশে সেইসব পর্যটকদের নেই আশানুরূপ সাড়া। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পর্যটক ঘোরাফেরা করছেন। তবে এ সংখ্যা খুবই কম এবং অধিকাংশই স্থানীয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়ার ফলে আশানুরূপ সাড়া নেই পর্যটকদের। এবার প্রথমে প্রচণ্ড তাপদাহ পরে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে পর্যটকরা বেড়াতে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়া ভ্রমণপিপাসুদের আর্থিক সংকটও একটা কারণ।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এর আগে ঈদের দিন লাউয়াছড়া, হাওর এলাকা ও শ্রীমঙ্গলের কয়েকটি চা-বাগানসহ জেলার পর্যটন স্থানগুলোতে অল্পসংখ্যক স্থানীয় দর্শনার্থীকে দেখা যায়।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাওয়া ছুটি কাটাতে প্রতিবছরই দেশের নানা প্রান্ত থেকে যান্ত্রিক কোলাহলে দিন কাটানো পরিশ্রান্ত মানুষ এসে ভিড় করেন পর্যটন অধ্যুষিত এলাকার নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতিতে। তবে বিপরীত চিত্র এবারের ঈদে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে স্থানীয় কয়েকজন দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে জেলার বাইরে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু এবার লাগাতার বৃষ্টি থাকায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। তাই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে এবার ঘুরবেন তারা।
কমলগঞ্জ এলাকায় কথা হয় জেলা শহর থেকে আসা পর্যটক উন্মে হাবিবার সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃষ্টিভেজা চা বাগানের পাহাড় টিলা দেখতে অনেকটা মনোমুগ্ধকর ছিল, সঙ্গে চা বাগানের পাশে বয়ে যাওয়া লেকের সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে, এছাড়াও নান্দনিক ইকো রিসোর্টে ঘুরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি।
শমশেরনগরের পাহাড় টিলা সমেত বনগাও এলাকায় ছন বাঁশের দৃষ্টিনন্দন ইকো রিসোর্ট কথা হয় শিক্ষার্থী সাবরিনা সানবিদা সুস্মির সঙ্গে। তিনি বলেন, সবুজ পাহাড়ের দিকে যতই যাই ততই মনে হয় স্বপ্নদেশে চলেছি। পাহাড়গুলো এখানে আরও কাছে। স্বর্গীয় পরশ নিয়ে মৃদুমন্দ বাতাস বইছে চারপাশে। দৃষ্টির সামনে পাহাড়গুলো যেন আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
লাউয়াছড়া পুঞ্জির বাসিন্দা সাজু মারছিয়াং বলেন, অন্যান্য সময় ঈদের মৌসুমে লাউয়াছড়ায় প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দুই হাজার পর্যটক আসেন। এবার সে তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম।
এদিকে ঈদে উপলক্ষে হোটেল-রিসোর্টে বুকিং কম হওয়ার কথা জানান শ্রীমঙ্গল এলাকার এসকেডি আমার বাড়ি রিসোর্টের মালিক সজল দাশ। তিনি বলেন, শহর ও শহরের আশপাশের হোটেল, রিসোর্টগুলো অধিকাংশ ফাঁকা পড়ে আছে। আমরা ঈদের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু অন্যান্য বছর ঈদের ১০ দিন আগে থেকেই রুম বুকিং হয়ে যায়। কিন্তু এবার আশানুরূপ বুকিং আসেনি।
লাউয়াছড়া টিকেট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা শাহীন মাহমুদ বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় ঈদের এই দু’দিন লাউয়াছড়ায় পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। অন্য সময় যেভাবে ভিড় থাকে এবার সেই ভিড় নেই। যারা এসেছেন তাদের মধ্যে স্থানীয় পর্যটকের সংখ্যা বেশি।
ঈদের দিন বিদেশি পর্যটকসহ সারাদিন ২৯৪ জন পর্যটক ছিলেন। এর মধ্যে বিদেশি পর্যটক ছিলেন ২৭ জন। রাজস্ব আয় হয়েছে ২৬ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয়দিন শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ পর্যটক প্রবেশ করেন। বিদেশি পর্যটক নেই। রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৫ হাজার ৯৮২ টাকা। এবার বাইরের পর্যটক কম এসেছেন বলে তিনি জানান।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক প্রবাল সিনহা বলেন, লাউয়াছড়ায় সাধারণ সময়ে যে ভিড় থাকে ঈদের ছুটিতে এই দুইদিন ভিড় নেই বললেই চলে। রাস্তাও ফাঁকা। হয়তো দু’একদিন মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।