৮ মার্চ ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি বাঘের ছবি নিয়ে সিলেটে তোলাপাড় চলছে। কে বা কারা ভারতের রাজপথে বাঘ বিচরণের একটি ছবি সিলেটের বিমানবন্দর সড়কের বলে পোস্ট করে। কয়েকদিন আগে বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন মালনীছড়া চা বাগানে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার কারণে ছবিটি সিলেটের মনে করে অনেকেই শেয়ার করেন।
আর এ খবরে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বাঘের সন্ধানে অভিযান শুরু করে বনবিভাগ। অভিযান চলাকালে দুপুরের দিকে বনবিভাগসহ সিলেটের পরিবেশকর্মীরা নিশ্চিত হন যে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি সিলেটের নয়, এটা ভারতের একটিগণমাধ্যমে প্রকাশিত পুরনো ছবি। তবে বনবিভাগ নিশ্চিত করেছে, বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন মালনীছড়া চা বাগানে চিতা বাঘ রয়েছে। আর তা ধরতে নাইটভিশন সেন্সর ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ মার্চ সিলেটের মালনীছড়ায় ঘাড় মটকানো অবস্থায় একটি গরু দেখতে পাওয়া যায়। মরা গরুর পাশে কয়েকটি পায়ের ছাপ রয়েছে। খবরটি বনবিভাগে পৌছলে বন কর্মকর্তারা পায়ের ছাপ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন এটা চিতা বাঘের পায়ের ছাপ। বড় ছাপের দু’পাশে আরো ছোট ছোট পায়ের ছাপ দেখে ধারণা করা হচ্ছে চিতাটির সাথে ২টি শাবকও রয়েছে।
ভূমি সন্তান, সিলেটের সংগঠক আনিস মাহমুদ বলেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি ভারতের গুজরাটের একটি পত্রিকায় কয়েক দিন আগে ছাপা হয়। কে বা কারা এটা সিলেটের বলে প্রচার করছে। এটা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। ছবিতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা গেলেও বনবিভাগ বলছে, বাগানে পাওয়া পায়ের ছাপ অনুযায়ী এখানে চিতাবাঘ রয়েছে।
অর্ণব সমাজকল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আরিফ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমি সাইক্লিংয়ের সাথে জড়িত। সাইক্লিং করতে গিয়ে মালনীছড়া চা বাগানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাই। বিষয়টি বন বিভাগকে জানালে তারা ওই স্থানে ক্যামেরা লাগায়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটির উৎস খুঁজতে গিয়ে আমরা জানতে পারি এটা ভারতের পত্রিকা থেকে নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আরএসএম মুনিরুল ইসলাম বলেন, মালনীছড়া চা বাগানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটা চিতা বাঘ হতে পারে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যাচ্ছে। এ ছবিটি ভারতের একটি পত্রিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। আমরা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিটি সত্যতা খুঁজতে গিয়ে জানতে পারি ছবিটি সিলেটের না। সকালে ছবিটি কথা জেনেই আমরা বাঘের সন্ধানে অভিযানে নামি। চা বাগানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে বাগানে ২টি নাইট ভিশন সেন্সর ক্যামেরা লাগাই। এখনো সেন্সরে কোনো কিছু দেখা যায়নি বলেও জানান তিনি।
(আজকের সিলেট/৮ মার্চ/ডি/এমকে/ঘ.)